সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ জুন: পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে যে হিংসার ঘটনা ঘটছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আগেই চিঠি পাঠিয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। যেখানে স্পষ্ট বলেছিল, ভোটের সময়ে নজরদারি চালাতে বাংলায় আসবে তাদের প্রতিনিধি দল। সূত্রের খবর, সোমবারই সেই প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসছে।এদিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের গোটা রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন দণ্ডি কাণ্ডের জের, আদিবাসী নির্যাতিতা শিউলিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী করল তৃণমূল
হিংসা রুখতে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র বাহিনীর পক্ষেই রায় দিয়েছে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। যদিও সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন। এহেন পরিস্থিতিতে সোমবার রাজ্যে আসছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল। সূত্রে খবর, এই দল দেখা করবে রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে হিংসার ঘটনা ঘটছে সেই নিয়ে আলোচনা কররে চায় তারা।

উল্লেখ্য, রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তাকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে সেই মামলার শুনানি ছিল। অতীতের ভোটে হিংসার কথা মাথায় রেখেই পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তাদের বক্তব্য, ২০১৮-র পঞ্চায়েত, একুশের ভোট পরবর্তী সময়ে বাংলায় ভয়ঙ্কর ছবি দেখা গিয়েছিল। সেসব মাথায় রেখেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাল্টা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তারা একটি স্বাশাসিত সংস্থা। পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার হলে তারাই করবে। এখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কোনওভাবেই তা করতে পারে না। নজরদারির কোনও এক্তিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নেই।রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন দেখার হাইকোর্টের শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়

প্রসঙ্গত,পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি রুখতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণার পরেই রাজ্যে চিঠি পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তারা জানায়, ভোটের সময়ে নজরদারি চালাতে রাজ্যে আসবে তারা। রাজ্যজুড়ে মনোনয়ন সংক্রান্ত অশান্তির আবহে ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে এবং মনোনয়নকে ঘিরে যাতে রাজ্যে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি, কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

এদিকে রাজীব সিনহাও রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন ও ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে সবরকম পদক্ষেপ করছে কমিশন। পাশাপাশি, জানিয়েছে, ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা, সেই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে তারা। এসবের মধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে মানবাধিকার জানিয়েছে, তারা নজরদারি চালাবে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে। অর্থাৎ কোথাও কোনও অশান্তি হলে তারা নিজেদের উদ্যোগে রিপোর্ট তৈরি করবে এবং পরবর্তীকালে তা দেখিয়ে রাজ্যের কাছে জবাবদিহিও চাইতে পারে তারা।


More Stories
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
প্রাক্তন বিধায়ক রফিকুরের ভাই আনিস গ্রেফতার
বিজেপি ইতিহাস জানে না, ভারতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে : কাকলি ঘোষ দস্তিদার