সময় কলকাতা ডেস্ক,১৮ জুনঃ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ২ ব্লকে পঞ্চায়তের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আইএসএফ ও তৃণমূলের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় দুই তৃণমূল কর্মী ও একজন আইএসএফ কর্মীর মৃত্যু হয়। রবিবার সেই নিহত তৃণমূল কর্মী রাজু নস্কর ও রসিদ মোল্লার পরিবারের সাথে দেখা করতে আসেন রাজ্য যুব তৃণমূলের সভাপতি সায়নী ঘোষ ও রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। পরিবারের সাথে দেখা করে পাশে থাকার বার্তা দেন। এই দুই নেতৃত্ব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ভাঙড় বিধানসভার তৃণমূলের অবজারভার ও ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকাত মোল্লা, ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম।এদিন প্রথমে ভাঙড়ের বামনঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটগাছায় পৌঁছন তাঁরা। সেখানে নিহত রাজু নস্করের বাড়িতে যান।পাশাপাশি সেদিনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত জীবনতলার বাসিন্দা রশিদ মোল্লার পরিবারের সাথেও দেখা করেন তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দল।পরে পরিবহণ মন্ত্রী রাজ্যপালকে তোপ দাগেন।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলা, উদ্বেগ প্রকাশ রাজ্যপালের

উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার মনোনয়নের শেষপর্বেও রণক্ষেত্র ভাঙড়। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়ে ভাঙড় ২ বিডিও অফিসের বাইরে। চলে বেশ কয়েক রাউণ্ড গুলিও। তৃণমূল এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সংঘর্ষে আবার অশান্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। তার জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক আইএসএফ কর্মীর। জখম হয়েছেন দুই তৃণমূল কর্মীও। এমনটাই দাবি যুযুধান দুই পক্ষের। বুধবার যে অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছিল তা ফিরে এল বৃহস্পতিবারও। ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের কাঁঠালিয়া মোড়ে আবার মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে গুলি চালানোরও। বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। চলছে পুলিশি টহলদারিও। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে প্রথম থেকেই থমথমে পরিস্থিতি ছিল ভাঙড়ে। ভাঙড়ের দু’টি বিডিও অফিস চত্বরেই জড়ো হন তৃণমূল এবং বেলা গড়াতেই আইএসএফ-এর কর্মীরা। এর পরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি, কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

প্রসঙ্গত, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। ভোর হতেই শুরু হয় বোমাবাজি। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে। এমনকী বিডিও অফিস চত্বরঅ এদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দু-দলের কর্মী সমর্থকদের হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মারামারির ছবি তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। তাঁদেরকেঅ এদিন মারধর করা হয়। এদিন শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন দিতে যান তৃণমূল প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, আইএসএফ বাধা দিলে যাতে প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য তৈরি হয়েই আসতে হয়েছে তাঁদের।আইএসএফ-সিপিআইএমের অভিযোগ,এদিন মনোনয়ন দিতে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা, এমনকী গুলি চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ করতে গেলে অগ্নিগর্ভ চেহারা নেয় ভাঙড়। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলতে থাকে বোমাবাজি।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি