Home » প্রতি জেলায় ১ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই সিদ্ধান্ত কমিশনের

প্রতি জেলায় ১ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই সিদ্ধান্ত কমিশনের

সময় কলকাতা ডেস্ক,২১ জুনঃ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরই পঞ্চায়েত ভোটে বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে এক কোম্পানি করে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর জরুরি বৈঠকে তেমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সেই মতোই কেন্দ্রের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে রিক্যুইজিশন পাঠানো হল বলে কমিশন সূত্রের খবর। গত ১৫ জুন পঞ্চায়েত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিল। তার পর হাইকোর্ট সব জেলায় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলে হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হিসাবে বাংলায় মোট ১৮৯টি অতি স্পর্শকাতর এবং স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে। রাজ্যের ৬২ হাজার বুথের মধ্যে যা খুবই কম। তাই বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন নেই। যদিও, কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, এমন নয় যে এই ১৮৯ সংখ্যাটি কোনও স্থায়ী সংখ্যা। এই সংখ্যার বদল হতে পারে। কারণ, কোনও এলাকায় মনোনয়ন পেশের সময়ে কোনও অশান্তি হয়নি। কিন্তু কে বলতে পারে সেখানে ভোটের দিন অশান্তি হবে না। কমিশন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে থাকবে।

এ ব্যাপারে জেলার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকদের থেকেও ফের রিপোর্ট চাইবে। তখন হতেই পারে যে আরও বাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে। এই পদ্ধতিকে বলা ডাইনামিক প্রসেস অর্থাৎ গতিশীল পদ্ধতি। তবে আপাতত যা প্রয়োজন সেই মতো রিক্যুইজিশনই পাঠানো হয়েছে। সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির পর রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, ‘পঞ্চায়েত ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আগ্রহ রাজ্য সরকারেরও রয়েছে। এই কারণে পাঁচটি রাজ্য থেকে বাহিনী চাওয়া হয়েছে। যাতে স্পর্শকাতর বুথে মোতায়েন করা যায়। তারপরেই বিচারপতি বিভি নাগরত্ন প্রশ্ন করেন, এর মানে আপনারাও স্বীকার করে নিচ্ছেন যে রাজ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী নেই। তাই অন্য রাজ্য থেকে বাহিনী চাইতে হচ্ছে আপনাদের। তার চেয়েও তো ভাল এক জায়গা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা। এতে আপনাদের আপত্তি কোথায়।’ এদিন কমিশনের তরফে আইনজীবী ছিলেন মীনাক্ষী অরোরা। বিচারপতি নাগরত্ন এদিন তাঁর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ার পর আপনারা তা পালন করলেন না কেন? বাহিনী কোথা থেকে আসবে সেটা তো আপনাদের দেখার কথা নয়।’

আরও পড়ুন    পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি, কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

উল্লেখ্য,পঞ্চায়েত ভোটের রায় ঘোষণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানিয়েছিল, রাজ্যের স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কমিশন ইতিমধ্যে যে সব জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে, সেখানে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রের কাছে রিক্যুইজিশন পাঠানো হোক। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি, পঞ্চায়েত মামলা চলাকালীন কমিশন একটি বা একাধিক জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করে কোনও রিপোর্টই পেশ করেনি। সে রকম কোনও প্রাথমিক মূল্যায়নও করেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টে থেকে কোনও সুরাহা না পেলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার পথ খোলা রাখছে। এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা শুরু করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্তারা।

About Post Author