সময় কলকাতা ডেস্ক,২৭ জুনঃ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল পঞ্চায়েত ভোটে ৮০০ কোম্পানির বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। সেই অনুযায়ী দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আপাতত ৩১৫ কোম্পানি বাহিনী অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এখন প্রশ্ন, কোন জেলায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, এই ৩১৫ কোম্পানি বাহিনীর ভিত্তিতে, কোন জেলায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তার একটা খসড়া তৈরি করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তাদের দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে তাতে আরও ৪৮৫ কোম্পানি ফোর্স কেন্দ্রের থেকে পাওয়ার কথা। কেন্দ্র যদি সেই বাহিনী পাঠাতে পারে, তাহলে জেলাওয়াড়ি আরও বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাঁকুড়া ও মুর্শিদাবাদ এই দু’টি জেলায়।

বাঁকুড়ায় ২৪ কোম্পানি ও মুর্শিদাবাদে তার একটু বেশি কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছে কমিশন। বোঝাই যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদ ও বাঁকুড়ায় অতি স্পর্শকাতর ও স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা বেশি। তবে মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিপুল অশান্তি হলেও বাঁকুড়ায় তা হয়নি। এ ছাড়া পূর্ব বর্ধমানে প্রায় ১৯ কোম্পানি, হুগলিতে ১৮ কোম্পানি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৮ কোম্পানি, কোচবিহারে ১২ কোম্পানি, দার্জিলিংয়ে ৬ কোম্পানি, উত্তর দিনাজপুরে ৩ কোম্পানি, আলিপুরদুয়ারে ৬ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রকে জানিয়েছে কমিশন। সেইসঙ্গে এদিনই কমিশন বাকি ৪৮৫ কোম্পানির জন্য আরও একবার তাগাদা চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে। এদিকে বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তেই বাহিনী নিয়ে আলোচনা চলছে। দিল্লিতে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে দিনহাটায় ফের চলল গুলি! খুন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী

ইতিমধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পাল্টা চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাতে জানতে চাওয়া হয়েছে, রাজ্যের তরফে প্রথম দফায় চাওয়া ২২ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হয়েছে। তা মোতায়েনও হয়েছে জেলায় জেলায়। তাহলে আরও ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী কোথায় মোতায়েন হবে? কীভাবে কাজে লাগানো হবে? বলা হয়েছে, এ নিয়ে নোডাল অফিসার অর্থাৎ বিএসএফের আইজি-র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। প্রসঙ্গত, বাহিনী চেয়ে মোট তিনবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। প্রথমবার হাই কোর্টের নির্দেশে প্রতি জেলার জন্য এক কোম্পানি করে ২২ কোম্পানি বাহিনী চাওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো আরও ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া হয়েছিল।

রবিবার বকেয়া বাহিনী পাঠানোর জন্য কমিশনের আরও একটি চিঠি পৌঁছয় দিল্লিতে।সোমবার সকালেই বাহিনী নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পালটা চিঠি দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। তাতে জানানো হয়েছে, ২২ কোম্পানির পর আরও ৩১৫ কোম্পানি অর্থাৎ মোট ৩৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটে অনুমোদন করা হয়েছে। সেই বাহিনীকে কীভাবে কাজে লাগানো হল? সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে চিঠিতে।


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
তৃণমূল ও সিপিএম প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর শপথবাক্য ও মন্ত্রগুপ্তি