সময় কলকাতা ডেস্ক,১ জুলাই ঃ জাতিদাঙ্গার কারণে অগ্নিগর্ভ মণিপুর। এহেন পরিস্থিতিতে আপাতত মণিপুরে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকছেন এন বীরেন সিং’ই। শুক্রবার জনবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি, এমনটাই জানিয়েছেন বীরেন স্বয়ং। রাজ্যে জাতি দাঙ্গার দায় নিয়ে শুক্রবার পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন বীরেন। সেই মতো রাজ্যপাল অনুসূয়া উইকির সঙ্গে দেখা করার সময় চান তিনি। রাজভবন বেলা দেড়টায় যেতে বলে মুখ্যমন্ত্রীকে। দেড়টার একটু আগে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাড়ি থেকে রওনা হলে গেটেই কয়েকশো মহিলা কনভয় আটকে দেন।
আরও পড়ুন মণিপুরে পৌঁছতেই রাহুল গান্ধির কনভয় আটকে দিল পুলিশ

এক মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গী এক অফিসারের হাত থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেন। তারমধ্যেই ছিল রাজ্যপালের উদ্দেশে লেখা বীরেনের পদত্যাগপত্র। নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যেই মহিলা পদত্যাগপত্রটি ছিঁড়ে ফেলেন। তাঁদের বক্তব্য, বীরেন সিং মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যান, চান না তাঁরা। রাজ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তিনিই সামাল দিতে পারবেন। তাঁর পদত্যাগ করা চলবে না। বীরেনের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নৈতিক দায় নিয়ে সরে যেতে চেয়েছিলেন। তচবে বিরোধীদের মতে, বীরেনের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত, বাংলোর বাইরে সমর্থকদের ভিড়, কনভয় থামানো এবং জনতার পদত্যাগপত্র কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে অনেকেই ‘সাজানো নাটক’ বলে মনে করছেন।

গত ৩ মে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতিভুক্ত করার বিরোধিতা করছে কুকি সম্প্রদায়৷ আর এ নিয়ে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷ তারপর থেকে প্রায় দু’মাস হতে চলল৷ এই প্রথম কংগ্রেস নেতা অশান্ত মণিপুরের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে যাচ্ছেন৷ বর্তমানে মণিপুরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ৩০০ টিরও বেশি ত্রাণশিবিরে বাস করছেন৷ ৩ মে পাহাড়ে ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’ হচ্ছিল৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতির স্বীকৃতি যাতে না-দেওয়া হয়, তার প্রতিবাদে এই মিছিল হচ্ছিল৷ সেখানে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে৷ মেইতেইরা মণিপুরের জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ এবং তারা ইম্ফলের উপত্যকায় বাস করে৷ এদিকে আদিবাসী নাগা ও কুকিরা জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ৷ তারা সাধারণত পাহাড়ি জেলাগুলিতে থাকে৷
আরও পড়ুন অশান্ত মণিপুরে ‘মহব্বত কি দুকান’ নিয়ে রওনা রাহুল গান্ধির

প্রসঙ্গত,মণিপুরে সংঘর্ষের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার। হিংসার আগুনে পুড়েছে প্রায় ২৫০টি গির্জা এবং ১৭টি মন্দির। এহেন পরিস্থিতিতে মণিপুর নিয়ে লাগাতার আক্রমণের পর গত বুধবার মুখ খোলেন স্বয়ং সনিয়া গান্ধি। ভিডিও বার্তায় সরকারের কঠোর নিন্দা করেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই সরব উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যটির অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায় বারে বারে সরব হয়েছিলেন তিনি। মণিপুরে জাতিদাঙ্গার কারণে চলছে মৃত্যু মিছিল। কয়েক হাজার মানুষ পরিবার নিয়ে ঘর ছাড়া। এই পরিস্থিতিতে যখন নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তখন প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফরের মধ্যে মণিপুর নিয়ে বিবৃতি দেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি। বিবৃতিতে সনিয়া একবারও প্রধানমন্ত্রীর কথা বলেননি, বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার কথাও বলেননি। শুধু কাতর আর্জি জানিয়েছেন, মণিপুরে জাতিদাঙ্গা বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার। সনিয়া গান্ধি এও বলেছেন, আমি একজন মা, তাই মা হয়ে মণিপুরের মা বোনেদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সন্তান ও পরিবারের কথা ভেবে আপনারা চেষ্টা করুন যাতে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?