সময় কলকাতা, ১০ জুলাই: “এভাবেও ফিরে আসা যায় “- আর ঘুরেও দাঁড়াচ্ছে ইংল্যান্ড। প্রথম দুই টেস্ট হেরে বেশ বেকায়দায় ছিল ইংল্যান্ড। যদিও দলের উপর থেকে আস্থা হারাননি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস। স্টোকস হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ঘরের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও অ্যাশেজ সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে পারে ইংল্যান্ড । রুখে দিতে পারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ীদের বিজয় রথ। যেই সময়ে দাড়িয়ে স্টোকস এই কথাগুলি বলেছিলেন, সেই সময়ে লর্ডসের মাটিতে দ্বিতীয় টেস্টেও পর্যদুস্ত হয়েছে ইংল্যান্ড। তার উপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত বেয়ারস্টোর আউট নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যম ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের প্রতিদিন তুলোধনা করছে নিজেদের প্রতিবেদনে। ব্রিটিশ অধিনায়কের এই কথাগুলিকে আষাঢ়ে বাণী বলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্রিকেট মহল।কিন্তু মার্ক উড, ক্রিস ওকসরা অন্য কিছু ভেবেছিলেন।
তাতে অবশ্য কিছু যায় আসেনি ব্রিটিশ ক্রিকেটারদের। কারণ ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের ছেলেরা মাঠের বাইরের সঙ্গে, মাঠের ভিতরের স্নায়ুযুদ্ধেও নিজেদের বেশ গুছিয়ে নিয়েছে। আঘাতের পাল্টা প্রত্যাঘাত করতে তাঁরা প্রস্তুত। হেডিংলি সেই প্রত্যাঘাতের সাক্ষী থাকল। প্রত্যাগাতের অন্যতম কান্ডারী হয়ে থাকলেন মার্ক উড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্রিটিশদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২২৪ রান। টেস্ট ক্রিকেট তো দূরের কথা এখন ২০ ওভারের ম্যাচেও এই রানের লক্ষ্যমাত্রা বিশাল নয়। তবে এই লক্ষ্যমাত্রাকে বিশাল করে দিল অস্ট্রেলিয়ার বহুল চর্চিত শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ। চতুর্থ দিনের প্রথম পর্বে খেলা দেখে ইংল্যান্ডের জয় মনে হচ্ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু মধ্যাহ্নভোজনের পর থেকে ব্রিটিশ ইনিংসের নাভিশ্বাস তুলে দেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার মিচেল স্টার্ক। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডারের দুই কাণ্ডারি বেন স্টোকস ও জনি বেয়ারস্ট্রোকে পরপর প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে ধাক্কা দেন স্টার্ক। এমনকি দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা হ্যারি ব্রুককেও প্যাভিলিয়নে ফিরিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ক্রিস ওকস ও মার্ক উডের হার না মানা লড়াইয়ের কাছে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।
টসে জিতে হেডিংলি টেস্টে প্রথমে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিং করতে পাঠানো সিদ্ধান্ত নেন ব্রিটিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস। প্রথম ইনিংসে অস্টেলিয়া ২৬৩ রান করে। ইংল্যান্ড বোলিংয়ের সামনে মিচেল মার্শ ছাড়া কেউই টিকতে পারেনি। ১১৮ বলে ১১৮ রানের ইনিংস খেলেন মার্শ। ইংল্যান্ডের হয়ে একাই ৫ টি উইকেট নেন মার্ক উড। জবাবে ২৩৭ রানে শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। ১০৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন স্টোকস। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬ টি উইকেট নেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় রান করতে ব্যর্থ হয় অস্টেলিয়া। ব্রড, ওকস, উডদের আগুনে পেসের সামনে মাত্র ২২৪ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫১ রানের। ৭ উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের নায়ক হ্যারি ব্রুক করেন ৯৩ বলে ৭৫ রান। মিচেল স্টার্ক ৫ উইকেট নিয়েও অস্ট্রেলিয়াকে জেতাতে পারলেন না।
ম্যাককালাম ইংল্যান্ড দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দলে ব্রাত্য ছিলেন ক্রিস ওকস। প্রায় দেড় বছর পর টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে নিজের জাত চেনালেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। দুই ইনিংস মিলিয়ে নিলেন ৬ উইকেট। এছাড়াও এই টেস্টে সুযোগ পেয়ে দুরন্ত খেললেন মার্ক উড ও মঈন আলিও। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট ও ৪০ রান করে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন মার্ক উড।জমে উঠল লড়াই। অ্যাশেজ সিরিজে পরের টেস্টের দিকে সাগ্রহে চোখ রাখছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।


More Stories
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
কুপার কনোলি জেতালেন পাঞ্জাবকে