Home » রাজ্যে আরও একমাস কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকুক, হাইকোর্টে আবেদন বিজেপির

রাজ্যে আরও একমাস কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকুক, হাইকোর্টে আবেদন বিজেপির

সময় কলকাতা ডেস্ক,২১ জুলাইঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী  জওয়ানদের আরো দশ দিন রাজ্যে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ ছিল, ফলপ্রকাশের পর ১০ দিন বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখতে হবে, যাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়। সেই সময়সীমা শুক্রবার শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলেই দাবি বিজেপির। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাজ্যে আরও চার সপ্তাহের রাখার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানাল বিজেপি। এই বিষয়ে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিজেপি নেত্রী তথা আইনজীবী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল।

আদালতে তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েত ভোট মিটে যাওয়ার পর এখনও বিভিন্ন জায়গায় মহিলা শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। বিজেপি কর্মীরা ঘর ছাড়া। বহু এলাকায় এখনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। তাই রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই আরও চার সপ্তাহ কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হোক।‘ এরপরই প্রধান বিচারপতি টিএস শিবাজ্ঞানম বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে। তাই এই পরিস্থিতিতে আমরা কোনও নির্দেশ দিতে পারব না। তবে আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করতে পারি। তার পরে বাহিনী রাখবেন কি না, সেটা তাদের উপর নির্ভর করছে। আদালত সূত্রের খবর, এই সময় প্রিয়াঙ্কা জানান, তিনি বিষয়টি কেন্দ্রকেও মেল মারফৎ জানিয়েছেন। সোমবার ফের এই মামলার শুনানি হবে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রকে এই মামলার কপি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

আরও পড়ুন   ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ১০০ দিনের ধাঁচে রাজ্যে নতুন প্রকল্প ঘোষণা তৃণমূল সুপ্রিমোর

এদিকে,রাজ্য জুড়ে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে জেলায় জেলায় ৩ জন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছিলেন বিএসএফের আইজি এস সি বুদোকোটি। এই নোডাল অফিসারদের জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সমন্বয় করেই ফোর্স মোতায়েন করতে হবে। কারণ, পঞ্চায়েত ভোটের আদর্শ আচরণবিধি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এরপর নবান্নে বিএসএফ-এর সঙ্গে বৈঠকের পর জেলাশাসকদের এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নে একটি বৈঠকে বসেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, স্বরাষ্ট্র সচিব বিপি গোপালিকা, রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য। সেই বৈঠকে ছিলেন আইজি বিএসএফ এসপি বুদাকোটি। সেই বৈঠকেই ঠিক হয় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরন্তর সমন্বয় রেখে চলবে।

ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি এখন পুরোপুরি রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারের মধ্যে রয়েছে। তাই সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও শর্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশের কথা শুনে চলতেই বাধ্য। উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ২১ জুলাই পর্যন্ত বাংলায় ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন কথা ছিল। কিন্তু এই বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে আর শুধু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা রাখেননি দিল্লি। জেলায় জেলায় একজন করে নোডাল অফিসারও নিয়োগ করেছিলেন। বিএসএফ কর্তা এদিন জেলাওয়াড়ি নোডাল অফিসারদের যে তালিকা প্রকাশ করেছেন, তাতে কমান্ডান্টদের নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ কোথাও হিংসার ঘটনা ঘটলে যাতে উপদ্রুত এলাকার মানুষ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য।

About Post Author