সময় কলকাতা ডেস্ক,২৩ জুলাই: গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে উত্তর ভারতের অনেক এলাকায় বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। উত্তর ভারতের পর এবার বন্যার ভ্রুকুটি পশ্চিম ভারতে। আহমেদাবাদ ও জুনাগড়-সহ গুজরাটের বহু জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে গুজরাটের দক্ষিণে এবং সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির প্রভাবে ঘনাচ্ছে বিপর্যয়ের আশঙ্কা। বন্যায় বিপর্যস্ত গুজরাট। জুনাগড়ে মারাত্মক বৃষ্টির প্রভাবে একাধিক বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার গোটা গুজরাট মিলিয়ে প্রায় ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে হড়পা বান। প্রবল বন্যায় জলে ডুবে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে একাধিক ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে জলে ভেসে যাচ্ছে গবাদি পশুও। সব মিলিয়ে প্রবল দুর্যোগে বিপর্যস্ত গুজরাট।
আরও পড়ুন লাগাতার ধস-হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০

এদিকে,গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির জেরে মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার খালাপুর তহসিলের ইরশালওয়াড়ি গ্রামে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ধস নামে। আর এই ধসের জেরে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। ১০০-রও বেশি মানুষ ধসের জেরে আটকে রয়েছেন বলে অনুমান। সূত্রের খবর, শুক্রবার ভোরে যখন ধস নামে, তখন গ্রামবাসীরা সকলেই ঘুমোচ্ছিলেন। সেই কারণেই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। অন্তত ৪৮টি বাড়ি ধসের কারণে ভেঙে পড়েছে এবং কুড়িটি বাড়ি কাদামাটির তলায় চাপা পড়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দল ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে। উদ্ধারকাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে আপৎকালীন কন্ট্রোলরুম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন ইতিমধ্যেই। আহতদের চিকিৎসার ভারও সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন ২১ জুলাই তৃণমূলের কর্মসূচিতে গিয়ে নিখোঁজ তৃণমূল কর্মী

যদিও গত কয়েকদিন ধরে রেকর্ড হারে বৃষ্টিপাতের কারণে ভাসছে রাজধানী। বিগত ৪৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে যমুনা নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। রীতিমতো ফুঁসছে যমুনা নদী। শনিবার রাত থেকে আরও বেড়েছে যমুনা নদীর জলস্তর। হরিয়ানার হাতনিকুণ্ড বাঁধ থেকে জল ছাড়ার জেরে পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপের দিকে গেছে যে শহরেও জল ঢুকছে হু হু করে। এমনকী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন সংলগ্ন এলাকাও ভাসছে যমুনা নদীর জলে। এই জরুরি অবস্থায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে রাজধানী শহরে। জানা গিয়েছে,হরিয়ানার বাঁধ থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার কারণেই দিল্লিতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বন্যা পরিস্থিতির জেরে দিল্লির রিং রোডের সিভিল লাইন, মঞ্জু কা টিলা, কাশ্মীরি গেট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোট ১৮টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর