Home » কয়লা পাচার মামলায় ফের ইডি-র হাজিরা এড়ালেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক

কয়লা পাচার মামলায় ফের ইডি-র হাজিরা এড়ালেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৫ জুলাই: কয়লা পাচার কাণ্ডে ফের ইডি-র হাজিরা এড়িয়ে গেলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। সূত্রের খবর, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় তিনি দিল্লি যেতে পারছেন না। তাই চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে তাঁর না আসার বিষয়টা জানিয়েছেন। যদিও ইডি সূত্রে দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনে প্রতিবার ১৫ দিন সময় দিয়ে মলয় ঘটককে ডাকা হচ্ছে। কিন্তু তিনি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রত্যেকবারই হাজিরা এড়াচ্ছেন। জানা গিয়েছে, কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে মলয় ঘটককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইতিমধ্যে তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা শঙ্কর চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। আসানসোলের গ্লাস কারখানার কর্মী ছিলেন শঙ্কর। ১৯৮২ সালে সেই কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই সময় থেকেই মলয় ঘটকের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। মলয় তখন অবিভক্ত বর্ধমানের দাপুটে কংগ্রেস নেতা।

এদিকে,কয়লা পাচার মামলায় আসানসোল পুরসভার ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দীপা চক্রবর্তীর স্বামী শঙ্করের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে দাবি ইডি-র। এর আগে গত ২৬ জুন মলয় ঘটককে ইডি তলব করেছিল। সেইসময় পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী। তার আগে, ২০ জুনও তাঁকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছিল। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দিতে বলা হয়। স্বভাবসিদ্ধ ভাবে সেই হাজিরাও এড়িয়ে যান মলয় ঘটক। এই নিয়ে একাধিকবার দিল্লিতে কয়লা পাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে তাঁকে, কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণ দেখিয়ে দিল্লি যাননি রাজ্যের মন্ত্রী।

আরও পড়ুন   কয়লা পাচার মামলায় ইডির ‘হেনস্তার’ অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে দারস্থ অভিষেক পত্নী রুজিরা

এর আগে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে সিবিআই অভিযান চালিয়েছিল মলয় ঘটকের বাড়িতে। পৌঁছে গিয়েছিল মলয়ের আসানসোলের বর্তমান বাড়ি, পৈতৃক বাড়িতে। এমনকী রাজভবনের মন্ত্রী কোয়ার্টারের যে ফ্লোরে মলয় থাকেন সেখানেও হানা দিয়েছিল সিবিআই। এরপরই ইডি-র ডাকাডাকির বিষয়টি নিয়ে মলয় সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, বাংলার আইনমন্ত্রীকে অন্তত ১৫ দিনের সময় দিয়ে ডাকতে হবে। ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই প্রতিবার ১৫ দিন সময় দিয়ে মলয়কে ডাকা হচ্ছে। কিন্তু কোনওবারই তিনি আসছেন না। বিষয়টি আদালত অবমাননার পর্যায়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে ইডি। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় এজেন্সি পরবর্তী পদক্ষেপ কী করবে তা ঠিক করতে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলেও ইডি সূত্রে খবর।

About Post Author