সময় কলকাতা ডেস্ক,১ আগস্টঃ গরু পাচার মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ চারজনকে তলব করল ইডি। আগামী ৪ আগস্ট ইডি-র দিল্লির অফিসে তলব করা হয়েছে ওই চারজনকে। ওই চারজনের মধ্যে রয়েছেন, বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পর্না ঘোষ, তাঁর স্বামী সুদীপ্ত ঘোষ, তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওমর শেখ। কিছুদিন আগেই গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ বিদ্যুৎ বরণ গায়েনের বাড়িতে সিবিআই হানা দিয়েছিল। প্রায় ঘণ্টাখানেক তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলে। বিদ্যুৎ বরণ গায়েনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সিবিআই আধিকারিকরা বেরিয়ে যান।

তারই মধ্যে গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী, মেয়ের নামে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। একইসঙ্গে অনুব্রতর বেশ কিছু অস্থাবর সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করেছে ইডির আধিকারিকরা। গরু পাচার মামলার তদন্ত নেমে একাধিকবার ইডি দাবি করেছিল যে, অনুব্রত মণ্ডলের নামে-বেনামে বিপুল টাকার সম্পত্তি করেছেন। তারপর থেকেই শুরু হয় সম্পত্তির খোঁজ। সূত্রের খবর, এর আগে মোট ১১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যেখানে ছিল, বোলপুরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা বিপুল পরিমাণ জমি, শিব শম্ভু ও ভোলে ব্যোম রাইস-মিল সহ আরও অনেক কিছু। এরপরই বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে আদালতে ২০৪ পাতার যে চার্জশিটও জমা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, তাতে কার্যত অভিযোগ করা হয়েছে বিএসএফের বিরুদ্ধেই। আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা দাবিতে বিপাকে কেন্দ্রেরই বাহিনী। বলা হয়েছে, যে চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে গরু পাচার হত, তাতে বড় ভূমিকা ছিল বিএসএফ কর্তাদের।
আরও পড়ুন গরু পাচার মামলায় এবার অনুব্রত ঘনিষ্ঠ বিদ্যুৎ বরণ গায়েনের বাড়িতে সিবিআই হানা

গত বছরই বীরভূমের নীচুপট্টির বাড়ি থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর চলতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি অনুব্রতর বিপুল সম্পত্তির উৎস সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি আদালতে পেশ করা হয়। সিবিআই সূত্রে খবর,প্রথমে ১৭৭ ও পরে ৫৪ টি বেনামি অ্যাকাউন্টের পর ৩ ফেব্রুয়ারি নতুন করে ১১৫ টি অ্যাকাউন্টের নথি জমা করেছিল সিবিআই। এই অ্যাকাউন্টগুলি বাফার অ্যাকাউন্ট হিসাবে ব্যবহার করার হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ১১৫ টি বাফার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে কেষ্ট মন্ডলের কী যোগ রয়েছে, তা জানতে তদন্তও শুরু করেছিল সিবিআই। সিবিআইয়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে প্রচুর কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। রাইস মিল সংক্রান্ত প্রচুর টাকার লেনদেন হয়েছে এইসব অ্যাকাউন্ট থেকেই। সিউড়ি সমবায় ব্যাঙ্কের এই অ্যাকাউন্টগুলিতেও গরু পাচারের টাকা লেনদেন হয়েছে কিনা? এদিকে,সমবায় ব্যাঙ্কগুলির অ্যাকাউন্ট থেকে যে টাকা ঘুরপথে অনুব্রত মণ্ডলের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, সেখানে রাজীব ভট্টাচার্যের নামও জড়িয়ে রয়েছে। এই সেই রাজীব ভট্টাচার্য, যাঁর বিরুদ্ধে অনুব্রত মণ্ডলের স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ৬৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গিয়েছে বাফার অ্যাকাউন্টে।


More Stories
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের
চাকরি পাওয়া নিয়ে দীপাঞ্জনকে পাল্টা জবাব দিলেন মীনাক্ষী
ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?