সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ আগস্ট: বেহালার পর এবার কুলগাছিয়ায় মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। ট্রেলারের সঙ্গে প্রাইভেট গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই মহিলা সহ তিনজনের। সোমবার সন্ধ্যায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ১৬ নং জাতীয় সড়কে কুলগাছিয়ার তুলসীবেড়িয়া মোড়ে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ট্রেলারের চালক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন হুগলির কোন্নগরের বাসিন্দা গবেষক অধ্যাপিকা নন্দিনী ঘোষ। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,করোনার সময় ট্রেনে করে যাতায়াত করতে অসুবিধা হত বলে গাড়ি কিনেছিলেন নন্দিনী। তারপর থেকে গাড়িতেই যাতায়াত করতেন তিনি। কখনও একা আবার কখনও দু একজন সহকর্মী তার সঙ্গে থাকতেন। সেই গাড়ি যেন অভিশাপ ডেকে আনল নন্দিনীর জীবনে। প্রত্যেকদিনের ন্যায় সোমবারও মেদিনীপুর থেকে কোন্নগর ফিরছিলেন তিনি। সেইসময় উলুবেড়িয়ার ১৬ নং জাতীয় সড়কে কুলগাছিয়ার কাছে ট্রেলারের সঙ্গে নন্দিনীর গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গাড়িতে নন্দিনীর সঙ্গে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের নিশা রায় ও গাড়ি চালক বিশ্বজিৎ দাস। ট্রেলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেট গাড়িটিকে ধাক্কা মারলে সেটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। গাড়ির মধ্যে থাকা দুই মহিলা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এদিকে, গাড়ির চালক গাড়ির মধ্যে আটকে থাকেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই তিনজনের। দুর্ঘটনার পরই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ।
আরও পড়ুন উত্তপ্ত মণিপুরে শান্তি ফেরাতে তিন অবসরপ্রাপ্ত মহিলা বিচারপতির কমিটি গঠনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নন্দিনীর বাবা সুদীপ ঘোষ জানান,নন্দিনী প্রতিদিন সকাল আটটায় বাড়ি থেকে বের হত। রাত আটটার মধ্যে বাড়ি ফিরত। এদিন বিকাল ৫ টায় মেদিনীপুর থেকে বেরিয়ে মাকে জানিয়েছিল নন্দিনী। রাত আটটা বেজে গেলেও বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তা শুরু হয় পরিবারের সদস্যদের। নন্দিনী, নিশা এবং বিশ্বজিৎ কারোর নম্বরে ফোন করলেও কোনোভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ নন্দিনীর ফোন ধরে জানান মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার কথা।


More Stories
স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ, সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন