সময় কলকাতা ডেস্ক,৯ আগস্ট : ‘বাঁশি কেন হায় আমারে কাঁদায় ” সেই কবেই গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকার। শুধু লতার গানে নয়, বহু গায়কের বিখ্যাত গানের কলি বাঁশি ঘিরেই। শ্যামের বা কৃষ্ণের বাঁশি ঘিরে রয়েছে কত গান, কবিতা, কথকতা। উল্লেখ্য,ভারতীয় উপমহাদেশের এক সুপ্রাচীন বাদ্যযন্ত্র বাঁশি বা বংশী । ঋগ্বেদে এর উল্লেখ আছে। অন্যান্য হিন্দু-বৈদিক গ্রন্থে বাঁশিকে নাদী এবং তূণব বলে বর্ণনা করা হয়েছে। যত সঙ্গীত আমরা শুনি সেখানে বাঁশির যোগ স্বপ্ন মাখা পরিবেশ সৃষ্টি করে।আমরা মান্না দের গাওয়া “স্বপনে বাজে গো বাঁশি” শুনি, আমরা বুঝতে পারি স্বপ্ন ও বাঁশির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় । হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়ার মত শিল্পীর বাঁশি স্বপ্নময় পরিবেশ গড়ে তোলে । বাঁশির মধ্যে দিয়ে আমরা স্বপ্নের কাছে পৌঁছে থাকি।আমাদের দেশীয় ও বিদেশী সাহিত্যে কত আশ্চর্য বাঁশিওয়ালার কাহিনী রয়েছে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের “মোহন রায়ের বাঁশি” অনেকেই পড়েছেন। প্রায় সবাই জানেন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার নাম। উভয়ের কাহিনী বলে, বাঁশি স্বপ্নের জগত তৈরি করে আচ্ছন্ন করে জীবকুলকে। আরেক স্বপ্নের যাদুকর বাঁশিওয়ালা সুভাষ বা সুভাষ মিস্ত্রির নাম ক’জনই বা জানেন? স্বপ্ন বিক্রি করেন বাঁশিওয়ালা সুভাষ।
বাঁশি ঘিরেই এই বঙ্গের হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা সুভাষ মিস্ত্রির জীবনকাহিনী জানলে আসে মুগ্ধতা। জীবন সংগ্রামে তাঁর আশ্চর্য প্রদীপ হয়ে দেখা দিয়েছে বাঁশি। জীবনধারণের জন্য আমাদের প্রত্যেককেই কোনও না কোনও পেশায় নিযুক্ত হতে হয় । পেশার মুখ্য লক্ষ্য নিশ্চিতভাবেই অর্থ উপার্জন।কিন্তু টাকাই তো আর জীবনের শেষ কথা নয়। নিজের পেশায় সর্বজনীন আনন্দ আর মুগ্ধতা আনতে পারলে তখন মানুষ পায় প্রকৃত মুক্তির আস্বাদ ও শান্তি। সম্পূর্ণ প্রথাবিহীন পেশায় বাঁশির সাহায্যে সুর তুলে নিজের হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজে পান দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বানসড়া এলাকার বাসিন্দা সুভাষ মিস্ত্রি।
আদতে করেন কি সুভাষ? বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ডাক ফুটিয়ে তোলেন তিনি বাঁশির মাধ্যমে। এই বাঁশি শুধু তিনি বাজান না, সকলকে আনন্দ দেওয়ার ফাঁকে বাঁশি তিনি বিক্রিও করেন ।তাঁর বাঁশিতে যেন সাতরঙা রামধনু খেলা করে, খেলা করে সুর সপ্তক। তাঁর বাঁশি শুনে ঘরে থাকা যেন দায়। বিভিন্ন পথ চলতি মানুষকে বিভিন্ন সুরে ডাকেন আর পাশাপাশি বাঁশিতে বিভিন্ন সুর তুলে বাঁশি বিক্রি করেন। আর মানুষ বাঁশি না কিনে করবেই বা কি!তাঁরা যে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকে বাঁশিতে। অভিনব পদ্ধতিতে বাঁশি বিক্রিই পেশা । পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির দুনম্বর ব্লকের সাতগেছিয়া বাজারে দিনভর বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে থেকে বিভিন্ন আওয়াজ করে, বিভিন্ন রকমের বাঁশিতে সুর তুলে বাঁশি বিক্রি করছেন বাঁশিওয়ালা সুভাষ মিস্ত্রি। উৎসুক মানুষ ভিড় জমান। পাশাপাশি বাঁশিও কেনেন অনেকেই বাঁশিওয়ালার থেকে। সকলের আপ্লুত হয়ে শোনেন সুভাষ বাঁশিওয়ালার সুরের মায়াজাল । দর্শক-শ্রোতারা মনে করেন,সাধনা করলে এভাবেই সুরের মায়াজাল খেলা তাঁদের বাঁশিতে। তাঁরাও হয়ে উঠতে পারবেন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা বা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মোহন রায়। সুভাষ মিস্ত্রি নিছক একজন বাঁশিওয়ালা নন । তিনি পৃথিবীতে বাঁচার লড়াইয়ে ক্লান্ত মানুষকে বাঁচার রসদ দেন। নিয়ে যান সুরের ভুবনে। সুভাষ মিস্ত্রি বাস্তবে স্বপ্নের সওদাগর।।


More Stories
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান
লেনিনের মৃত্যু : বিতর্ক এবং বাস্তব
রাজ কিরণ অন্তর্ধান রহস্য