Home » বানারহাটে ভুয়ো চিকিৎসক নন্দগোপালের পাল্লায় পড়ে বেঘোরে প্রাণ গেল রোগীর

বানারহাটে ভুয়ো চিকিৎসক নন্দগোপালের পাল্লায় পড়ে বেঘোরে প্রাণ গেল রোগীর

সানি রায়,সময় কলকাতা,১৬ আগষ্ট :জলপাইগুড়ির বানারঘাটের দোমাসু রায়ের হয়েছিল শ্বাসকষ্টের সমস্যা। ৬৫ বছর বয়সী দোমাসু রায়ের নিশ্বাস নিতে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় তিনি শরণাপন্ন হন নন্দগোপাল রায়ের। নন্দগোপাল রায় ১৫ বছর ধরে এলাকায় চিকিৎসা কেন্দ্র খুলে বসে আছেন । পসার মন্দ নয়। পাঁচতলা ইমারতে রোগীদের চিকিৎসা করেন। সেখানেই রয়েছে ওষুধের দোকান। নন্দগোপালের হাতে পড়েই বিপত্তি দেখা দেয় রোগীর। নন্দগোপালের চিকিৎসাবিদ্যায় যা মনে হয়ছিল সেরকম সিদ্ধান্ত নেন তিনি।দোমাসুকে তড়িঘড়ি ইনজেকশন দেন। চিকিৎসাকেন্দ্রে স্যালাইন চালু করে দেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে রোগীর। নন্দগোপালের চিকিৎসাধীন রোগীর দ্রুত অবস্থার অবনতি হয়। দ্রুত অবশ হয়ে পড়তে থাকেন তিনি। অবস্থা বেগতিক বুঝে রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে রোগীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা ।

মঙ্গলবার রাতে বানারঘাট শালবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনায় দ্রুত উত্তেজনা ছড়ায় রোগীর মৃত্যু হতেই। এলাকাবাসী ও আত্মীয়পরিজন চড়াও হয় নন্দগোপালের চিকিৎসাকেন্দ্রে। এলাকার লোকজনের অভিযোগ ছিল, নন্দগোপাল আদতে পাশকরা চিকিৎসক নন, গিনিপিগের মত মানুষের ওপর চিকিৎসা চালান। উত্তেজনা এতটাই বাড়ে যে, বানারহাট থানার পুলিশকে আসতে হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। তখন এলাকাবাসীর অভিযোগের যথার্থতা প্রকাশ পায়। জানা যায় চিকিৎসক হওয়ার কোন শংসাপত্র বা লাইসেন্সই নেই নন্দগোপালের।রাতেই গ্রেফতার হয়ে যান ভুয়ো চিকিৎসক। বুধবার তাকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুন :অন্য রোগিনীর রিপোর্ট দেখে এক রোগীর চিকিৎসার অভিযোগ

তবে  বানারহাট থানার পুলিশ চিকিৎসাসংক্রান্ত কারণে নন্দগোপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে নি বলেই জানা গিয়েছে। স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জ  শান্তনু সরকারের বক্তব্য,  “চিকিৎসায় গাফিলতির জন্য নয়, নন্দগোপালকে গ্রেফতার করা হয়েছে চিকিৎসক হওয়ার কোনওরকম অভিজ্ঞতা ছাড়াই চিকিৎসা করার দায়ে। ” অর্থাৎ চিকিৎসায় গাফিলতি সংক্রান্ত অভিযোগ পুলিশ আনছে না, ভুয়ো চিকিৎসক হিসেবে নন্দগোপালের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হচ্ছে।এখন প্রশ্ন, তাই যদি হয় তাহ’লে কার মদতে প্রকাশ্যে একজন ভুয়ো চিকিৎসক বিরাট গবেষণাগার খুলে চিকিৎসা করে গেলেন দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে? লাইসেন্সহীন চিকিৎসকের মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দায় কে নেবে?

আরও পড়ুন :স্ট্রেস আর স্ট্রেস, চাপের হাত মুক্তি দেবে কোন খাদ্যতালিকা?

About Post Author