সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ আগস্ট : দেবীপক্ষ পড়তে না পড়তেই সূর্যগ্রহণ, এবছর মহালয়ায় সূর্যগ্রহণ। ১০০ বছরে এই প্রথম বার হাজার প্রশ্ন জাগিয়ে মহালয়ায় সূর্যগ্রহণ।
পুজো আসতে দেরি নেই । বঙ্গে বর্ষা শেষ হলেই চলে আসে মানুষের মনে পুজো পুজো ভাব। শুরু কেন কাটা, সাজগোজের প্রস্তুতি। আর এই পুজোর শুরুই হয় মহালয়া দিয়ে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এ বছরের দেবীপক্ষই শুরু হবে সূর্যগ্রহণের সঙ্গে ! হ্যা, এবছর মহালয়ায় লাগবে গ্রহণ ! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দেবীপক্ষের সূচনায় সূর্যগ্রহণ ঘটলে কোনও অমঙ্গল হবে না তো? প্রতিবারের মতো রীতিনীতি মেনে পিতৃতর্পণ করা যাবে তো? বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ভারত থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে না। বিগত ১০০ বছরের সময়কালে এমনটা হয়নি। মহালয়ার দিন সূর্যগ্রহণ খুব সাধারণ ঘটনা নয়। স্বাভাবিকভাবেই, প্রতিবারের মতো রীতিনীতি মেনে পিতৃতর্পণ করা যাবে নাকি তা নিয়ে উদ্বেগে ধর্মপ্রাণ মানুষরা। জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদরা অবশ্য বলেছেন, ভারতে এই সূর্যগ্রহণ অদৃশ্য, তাই তর্পণের রীতি পালনে কোনও বাধা নেই। তথ্য বলছে, ১৪ অক্টোবর, মহালয়ার দিন অমাবস্যা তিথি। সেদিন পিতৃতর্পণ হবে ভারতের বিভিন্ন নদীর ঘাটে ঘাটে। সেদিনই ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ গ্রহণ স্পর্শ করবে সূর্য। রাত ২টো ২৫ মিনিটে পর্যন্ত গ্রহণ থাকবে। এটি কঙ্কনাকৃতি সূর্যগ্রহণ হবে। এ জন্য তর্পণে কোনও অসুবিধা নেই বলেই জানিয়েছেন জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদরা। কারণ সূর্যগ্রহণ ভারতের আকাশে দেখা না যাওয়ায় প্রভাব পড়বে না। ২০২৩ সালে মোট চারটি গ্রহণ সংগঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম সূর্য গ্রহণ ছিল ২০ এপ্রিল। তার পর ৫ মে প্রথম চন্দ্র গ্রহণ ছিল। ১৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ও শেষ সূর্য গ্রহণ হবে। ২৯ অক্টোবর সংগঠিত হবে চন্দ্র গ্রহণ। ১৪ অক্টোবরের সূর্য গ্রহণ দেখা যাবে উত্তর আমেরিকা, গুয়াটেমালা, মেক্সিকো, কানাডা, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, অ্যান্টিগুয়া, কলম্বিয়া, কিউবা, বারবাডোস, পেরু, হাইতি, উরুগুয়ে, ডোমিনিকান, ভেনেজুয়েলা, জামাইকা, প্যারাগুয়ে, ব্রাজিল, বাহামাস, ইত্যাদি স্থানে। ভারত থেকে সূর্য গ্রহণ দেখা যাবে না। তাই ভারতে গ্রহণের সূতক কাল মান্য হবে না। সাধারণত সূর্যগ্রহণ সংগঠিত হওয়ার ১২ ঘণ্টা আগে সূতক লাগে। গ্রহণ শেষ হওয়ার পর সূতক কাল শেষ হয়ে যায়। সূতককাল ১৪ অক্টোবর সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে শুরু হবে। গ্রহণ সম্পন্ন হবে ১৪ অক্টোবর মাঝরাত ২টো ২৫ মিনিটে। গ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সূতক সম্পন্ন হবে। সাধারণ মানুষের কাছে শুভ বার্তা এই যে,এতে অমঙ্গল দেখছেন না জ্যোতিষীরা। তবে আশ্চর্য হচ্ছেন, আর অবাক না হয়েই বা উপায় কী!


More Stories
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান
লেনিনের মৃত্যু : বিতর্ক এবং বাস্তব
রাজ কিরণ অন্তর্ধান রহস্য