Home » নার্স লুসি লেটবি সাত নবজাতক খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত,রহস্য মোটিভ ঘিরে

নার্স লুসি লেটবি সাত নবজাতক খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত,রহস্য মোটিভ ঘিরে

সময় কলকাতা ডেস্ক,২০ আগস্ট :  কাউন্টেস অফ চেষ্টার হাসপাতালে নব জাতক বিভাগে সাতটি শিশুকে হত্যা এবং অন্য ছয়জন শিশুকে হত্যার চেষ্টায় অভিযুক্ত নার্স লুসি লেটবিকে ১৮ আগস্ট দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তথাপি লুসি লেটবিকে নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না ।সাতজনকে লুসি লেটবি খুন করেছে, সন্দেহ করা হয়  আরও সাতজনকে সে হত্যার চেষ্টা করে তাদের মধ্যে ছয়জনই আহত হয়।তার বিরুদ্ধে সাত খুনের পাশাপাশি ছয় খুনের চেষ্টার অভিযোগ ছিল।তাঁর এহেন কার্যকলাপের জন্য ইতিমধ্যেই তাঁকে চিকিৎসা জগতের সঙ্গে যুক্ত ইংল্যান্ড  তথা বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে নৃশংস সিরিয়াল কিলারদের একজন করে তুলেছে । লুসি লেটবির সবচেয়ে শিকার ছিল মাত্র একদিন বয়সী। ৩৩বছর-বয়সী লুসি লেটবির ক্রিয়াকলাপের পিছনের কারণগুলি কখনও পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যাবে না  মনে করা হলেও ১০ মাস বিচার চলাকালীন  বিচারকালে  বিচারকদের বক্তব্যে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য উঠে এসেছিল। কে এই লুসি লেটবি? এরকম ভাবে তার সিরিয়াল কিলার হওয়ার পেছনে কারণ কী? তদন্তে কী উঠে এসেছে?কী মনে করেছেন বিচারকরা?

১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের হেরেফোর্ডে জন্ম তাঁর। চেষ্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা। তিনবছর নার্সিং নিয়ে পড়ার পরে ২০১১ সালে  লুসি লেটবি লিভারপুল মহিলা হাসপাতালে যোগ দেন। অতঃপর  কাউন্টেস অফ চেষ্টার হাসপাতালে নবজাতক বিভাগ বা নিওনেটাল বিভাগে যোগ দেন। নিওনেটাল বিভাগ বা নবজাতক বিভাগ ০ থেকে ২৮ দিনের শিশুদের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভাগ যেখানে তাঁর বিশেষ দক্ষতার জন্য তিনি সুপরিচিতি পান।কিন্তু তিনি যে যৌথসত্তার অধিকারিণী ছিলেন সে অভিযোগ উঠতে থাকে ২০১৫-১৬ সাল থেকে। তাঁর অপরাধগুলি ২০১৫-২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত হয় ও তিনি অভিযুক্ত হন।

তিনি দুবার গ্রেফতার হন আর দুবারই ছাড়া পেয়ে যান। চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজের পাশাপাশি তাঁর বাড়ি থেকে অন্য কিছু লেখা পাওয়া গিয়েছে যেখানে একজায়গায় তিনি লিখেছেন ” আমি একজন শয়তান, আমি এসব করেছি “। তিনি নিওনেটাল ইউনিটের পাঁচজনের অন্যতম ছিলেন অর্থাৎ তাঁর বাচ্চা দের সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, যে রুগ্ন নবজাতক দের  দিকে অন্যদের নজর পড়ত না, সেগুলি দেখভালের দায়িত্ব ছিল তাঁর। নার্সিং বিদ্যায় তাঁর দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত তা জানা গিয়েছে তবুও আবার তাঁর অপরাধের ছায়া তাঁকে ছাড়ে নি।নতুন করে অভিযোগ ওঠায় ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালের অপরাধের ঘটনাগুলির তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।

বিগত দশমাস ধরে চলা অপরাধ ও হত্যালীলার শুনানিকালে কৌসুলিরা লুসির সম্পর্কে আদালতে বলেন তিনি নিজেকে ভগবান হিসেবে জাহির করতে চেয়েছেন। তাঁরা বলেন,'”তিনি একটি শিশুর ক্ষতি করে “ভগবানের ভূমিকা পালন করেছেন” এবং তারপরে তার সহকর্মীদের স্বাস্থ্যের অবনতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এভাবেই তিনি অপরাধের সামগ্রিক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেছেন।”‘ “তিনি যা ঘটছে তা উপভোগ করছিলেন। তিনি এমন জিনিসগুলির ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন যেন তিনি জানতেন কী ঘটতে চলেছে। আর এভাবেই তিনি বাস্তবে ঈশ্বরের চরিত্রে অভিনয় করছেন,” একজন কৌসুলি অভিযোগ করেন।

এছাড়াও এক চিকিৎসকের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রেখে চলতেন  যার সঙ্গে শিশুমৃত্যু ও শিশুদের শারীরিক অবনতির কথা জানাতে তথ্য বিনিময় করতেন । এই প্রসঙ্গে কৌসুলিরা অভিযোগ করেছেন, “চেস্টার হাসপাতালের কাউন্টেসের একজন বিবাহিত ডাক্তারের সাথে লেটবির গোপন সম্পর্ক ছিল।” লুসিস লেটবির আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু বিবাহিত চিকিৎসক এমন দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন- যাদের সাথে যোগাযোগ করা হবে যখন শিশুদের দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। আদালতে এটা বোঝানো হয়েছিল, যে তিনি তার “ব্যক্তিগত মনোযোগ” পাওয়ার জন্য তাদের আঘাত করেছিলেন, কিন্তু লেটবি এই অভিযোগ মানেন নি,বিন্দুমাত্র সহমত হননি।অথচ আদালতে দেখানো টেক্সটগুলি প্রকাশ করেছে যে নার্স- চিকিৎসকের মধ্যে নিয়মিতভাবে ফোন চ্যাট ও মেসেজ মাধ্যমে আলাপচারিতা চলত , প্রেমের হার্ট ইমোজিগুলি অদলবদল হত  এমনকি কাজের বাইরে তাঁরা বেশ কয়েকবার দেখা করেন। প্রমাণ মিলেছে,২০১৬  সালে লেটবিকে নবজাতক ইউনিট থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেও এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় নি।

বিকারগ্রস্থ ভাবনার শিকার হয়ে নিজের ভেতরের “শয়তানকে”  আরও শক্তিমান করে তোলাই কি তাঁর লক্ষ্য ছিল? অথবা,পরপুরুষের সান্নিধ্য পেতেই খুন নাকি নিজেকে শয়তান মনে হওয়া থেকে উত্তরণ ঘটাতে চেয়ে নিজেকে ঈশ্বরতুল্য করে তুলতেই সাতটি শিশুকে খুন? লুসি লেটবি মানবীরূপে এমন এক দানবী যার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য  চিরকাল হয়তো ধোঁয়াশা হয়েই থেকে যাবে।।

About Post Author