সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ আগস্ট: নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। কিছুদিন আগেই শিক্ষাক্ষেত্রে ‘পোস্টিং’ দুর্নীতি মামলায় সরব হয়েছিল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য এই দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেও অভিযোগ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পদক্ষেপ নিতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেয়। এবার এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে কিছুটা স্বস্তি পেল রাজ্য। শীর্ষ আদালতে ধাক্কা খেলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গত ২৫ জুলাই প্রাথমিক স্কুলের পোস্টিং মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রয়োজনে ইডিকেও তদন্তের নির্দেশ দেন। বিচারপতির সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়া উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ, সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ রাজ্য

রাজ্য সরকার প্রশ্ন তুলেছিল, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এমনিতেই তদন্ত করছে সিবিআই। তবে পোস্টিংয়ের মামলায় নতুন করে সিবিআই তদন্তের প্রয়োজনীতা কী? সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়. রাজ্যের বক্তব্য শোনার আগে আপাতত বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ থাকবে।এরপরেই সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশর উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশের ভিত্তিতেই সোমবার হুগলির ৩০ জন প্রাথমিক শিক্ষককে নিজাম প্যালেসে তলব করেছিল সিবিআই। সেই নির্দেশেও এবার দেওয়া হল স্থগিতাদেশ। এর আগে গত ১১ আগস্ট বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষাক্ষেত্রে পোস্টিং দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই প্রয়োজন মনে করলে ৩৪৪ জন শিক্ষককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে।

আরও পড়ুন শিক্ষাক্ষেত্রে ‘পোস্টিং’ দুর্নীতিতে ৩৫০ জন শিক্ষককে জেরার নির্দেশ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের
পোস্টিং দুর্নীতি মামলায় চলতি সপ্তাহেই মোট ৪০০ জন শিক্ষককে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এক্ষেত্রে আগে থেকে মূল মামলাকারীদের নোটিস দিতে হবে। এরপরই এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান, যেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ‘পোস্টিং’ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। আগামী ২৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে বলেও জানান। এর আগে ২০২১ সালের জুলাই মাসে পর্ষদ একটি তালিকা বের করে। সেই তালিকাতেই দেখা যায়, এমন বহু শিক্ষক রয়েছে, যাঁদের নিজেদের জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। টাকা দিয়ে তাঁরা পছন্দের জায়গায় পোস্টিং নিয়েছেন। এরপর ৩০ জুলাই ফের শূন্যপদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় সব জেলাতেই কমবেশি শূন্যপদ রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকদের নিজের জেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এরপরে প্রশ্ন ওঠে, মাত্র ২৩ দিনে কী করে তৈরি হল এই শূন্যপদ? তাহলে কি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়েই শিক্ষকদের পছন্দের জেলায় বদলি করা হয়ছিল? ইতিমধ্যেই সেসব প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?