Home » যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়া উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ, সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ রাজ্য

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়া উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ, সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ রাজ্য

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার জেরে উত্তাল রাজ্য। এই অশান্তির আবহের মাঝেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ঠিক করেছিলেন যাদবপুরের আচার্য তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এবার রাজ্যপালের নয়া উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করেই এই নিয়োগ করা হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়োগ অবৈধ বলেও ইতিমধ্যে সরব হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সোমবার অর্থাৎ আজই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাত নতুন কিছু নয়। এর আগেও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অস্থায়ী ১৪ জন উপাচার্য নিয়োগ করেছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই রাজ্যপাল যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন, তাঁদের উপাচার্য হিসেবে পারিশ্রমিক ও ভাতা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর।

জানা গিয়েছে,রাজ্যের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করেই ওই উপাচার্যদের নিয়োগ করা হয়েছে। কার্যত সেকারণেই রাজ্যপাল নিযুক্ত উপাচার্যদের বেতন ও ভাতা বন্ধের নির্দেশ জানিয়ে সে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছিল। এরপর উপাচার্য নিয়োগের বৈধতা তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। সেসময় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, রাজ্যপাল যে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন তা বৈধ। রাজ্যপালের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন সনৎ কুমার ঘোষ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট আইন না মেনে অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই রাজ্যপাল উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগের যে সময়সীমা তা অগ্রাহ্য করেই রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের সঙ্গে পরমর্শ করার বিষয়টি আইনসভার অন্তর্ভুক্ত একটি আইন। সেই আইনকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। রাজ্য এই উপাচার্যদের বেতন দেয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগ যদি বেআইনি হয়, তাহলে সরকার টাকা দেবে কীভাবে? সেই প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী।

আরও পড়ুন   ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের প্রথমবার ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ জয়

প্রসঙ্গত, গত ৩১ মে কল্যাণী, বর্ধমান, যাদবপুর,কাজি নজরুল সহ রাজ্যের ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তারপরই উপাচার্য হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন নবনিযুক্ত। অনেকে আবার যোগ দেবেন কি না তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। সব মিলিয়ে শিক্ষার সার্বিক ক্ষতি হবে বলেই মত জানিয়েছিলেন শিক্ষাবিদরা। আর এই নিয়োগের বিষয়টি নাকি সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। শিক্ষামন্ত্রীর টুইট থেকেই বোঝা গিয়েছিল যে, রাজ্যপালের সেই সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করছে রাজ্য। রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখেই করেছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। টুইটে তিনি বলেন, ‘এই নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি। বেআইনি ভাবে নবনিযুক্ত মাননীয় উপাচার্যদের সকলকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে সসম্মান অনুরোধ থাকবে যে, তাঁরা যেন এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন।’

About Post Author