সময় কলকাতা ডেস্ক,২৩ আগস্ট : ফিফা মহিলা বিশ্বকাপে ফাইনালে স্পেনের কাছে ইংল্যান্ডের হেরে যাওয়ার নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করলে এসিএল (ACL) ইনজুরি অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসবে।সম্প্রতি সামনে এসেছে আর্সেনাল মহিলা দলের ফুটবলার তেয়া গোল্ডির এসিএল (ACL) ইনজুরির কথা।। এসিএল ইনজুরি ইংল্যান্ডের মহিলা ফুটবলারদের ক্ষেত্রে যেন বেশি করে হচ্ছে যদিও এই বিশেষ ধরণের চোটে সারা বিশ্বের ক্রীড়াবিদ ও ফুটবলারদের অনেককেই ভুগতে হয়েছে। অনেকেরই খেলোয়াড়ি জীবন ছোট করে দিয়েছে এসিএল ইনজুরি, অনেকেই এই চোট কাটিয়ে স্বমহিমায় মাঠে ফিরেছেন – অনেকেই ফিরতে পারেন নি।
আর্সেনাল ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে,১৯ বছর বয়সী আর্সেনাল ডিফেন্ডার তেয়া গোল্ডি গত একবছরে এসিএল ইনজুরিতে আক্রান্ত পঞ্চম আর্সেনাল খেলোয়াড় যার অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জারি ।ইংল্যান্ডের যুবা আন্তর্জাতিক ফুটবলারের ২০২২ সালে ওয়াটফোর্ডে লোনে থাকাকালীন তার বাঁ পায়ে গুরুতর চোট লাগে। উল্লেখ্য, এর আগে আর্সেনালের লরা ভিনরোইদার, বেথ মিড, ভিভিয়েন মিডেমা এবং লেহ উইলিয়ামসনও এসিএল ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন।
আর্সেনাল মহিলা ফুটবলার শুধু নয় বহু তারকা ফুটবলারের ফুটবল জীবন এসিএল ইনজুরির কারণে প্রশ্নচিহ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল।নিস্তেল রুই, অ্যালান শিয়েরার, ইব্রাহিমোভিচ, রবার্তো বাজ্জিও, দেল পিয়ারো সহ একাধিক এমন ফুটবল নক্ষত্রকে এসিএল জনিত সমস্যায় ভুগতে হয়েছিল। তাঁরা ফিরে আসেন চোট কাটিয়ে কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে তাঁদের সেরা সময়ের কিছুটা হলেও মাঠের বাইরে কেটেছে ।
প্রশ্ন হচ্ছে, এসিএল (ACL) ইনজুরি আদতে কি? এন্টেরিয়ার ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (ACL)-এর ছিঁড়ে যাওয়া বা মচকে যাওয়াকে এসিএলের আঘাত বলে। পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য যে,এসিএল কী? সংজ্ঞা হিসেবে বলা যায় এসিএল টিস্যুর শক্তিশালী ব্যান্ডগুলির মধ্যে একটি যা উরুর হাড় (ফিমার) ও শিনবোন (টিবিয়া)-এর সাথে সংযুক্ত করতে সহায়তা করে।
এসিএল (ACL) ইনজুরি সাধারণত খেলার সময় ঘটে থাকে। হঠাৎ থেমে যাওয়া বা দিক পরিবর্তন, জাম্পিং এবং ল্যান্ডিং এরকম বিভিন্ন বিষয় যে যে খেলায় যুক্ত সেখানে এসিএল ইনজুরি বেশি করে হয়। উদাহরণ হিসেবে বাস্কেটবল, ফুটবল এবং ডাউনহিল স্কিইং ইত্যাদি বিশেষ কিছু খেলার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।
এসিএল (ACL ) ইনজুরি ঘটলে অনেক লোক হাঁটুতে “পপিং” সেনসেশন অনুভব করে। পপিং অনুভূতি lকে সংক্ষেপে বলা যেতে পারে,হাঁটুর মধ্যে বায়ু বা গ্যাসের বুদবুদ তৈরি হওয়ার মত অনুভূতি হয়। হাঁটু ফুলে যেতে পারে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অস্থির বোধ এবং সামান্য শারীরিক ওজন সহ্য করার জন্য ভয়ঙ্কর ব্যথা হতে পারে।
এসিএল (ACL) ইনজুরির তীব্রতার উপর নির্ভর করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা।এই আঘাতের থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসার পাশাপাশি, শক্তি এবং স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করার জন্য বিশ্রাম এবং পুনর্বাসন ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, অথবা ছেঁড়া লিগামেন্ট প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে। এছাড়াও সুস্থ জীবনে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার জন্য দরকার সঠিক প্রশিক্ষণ ও কীভাবে খেলার মাঠে পুনর্বাসন হবে তার উপযুক্ত কর্মসূচি।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার