Home » এএফসি কাপে আবাহনী ঢাকাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্ৰুপপর্বে মোহনবাগান

এএফসি কাপে আবাহনী ঢাকাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্ৰুপপর্বে মোহনবাগান

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ আগস্ট : ঘরোয়া টুর্নামেন্টে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না মোহনবাগানের। ডার্বিতে হারতে হয়েছে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলের কাছে।সেখানেই ব্যর্থতা থেমে থাকেনি। কলকাতা ফুটবল লিগেও সবুজ মেরুনকে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে সাদার্নের কাছে। কিন্তু মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো বলেছিলেন তাদের লক্ষ্য বৃহত্তর। তাঁদের লক্ষ্য যে এএফসি কাপে ভালো ফল করা, তা আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন মোহনবাগান কোচ । আর এএফসি কাপে সাফল্যকে পাখির চোখ করেই মঙ্গলবার কলকাতায় বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে জয় পেল জুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা। সবুজ মেরুন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঝকঝকে ফুটবল উপহার দিয়েই জিতল।২০২৩-২০২৪ এএফসি কাপ প্লে-অফে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ৩-১ গোলে হারাল আবাহনী ঢাকাকে।এই জয়ের মাধ্যমে, মোহনবাগান এশিয়ার ক্লাব ফুটবল লিগের অন্তর্গত এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে পৌঁছে গেল ।

জয় পাওয়ার পাশাপাশি মোহনবাগানের কিছুক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করে গেল এদিনের ম্যাচে। যেমনটা সমর্থকরা চাইছিলেন ঠিক তেমনটাই হল ফরোয়ার্ড লাইনে। মোহনবাগানের জোড়া ফলা তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল।কামিন্স ও সাদিকু গোল পেলেন। ঘটা করে দুই আন্তর্জাতিক স্তরের প্লেয়ারকে এনে ডার্বিতে খেলালেও কাজের কাজ হয় নি। এদিন তাঁরা ইঙ্গিত রাখলেন সময়ের সাথে সাথে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে তাঁরা প্রত্যাশা পূরণ করবেন। বিপক্ষের ঘুম কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা যে তাঁদের রয়েছে- তার কিছু ঝলক তাঁরা দেখালেন ।

আরেকটি দিক এদিন চোখে পড়ল। ডিপ ডিফেন্সে এদিন মোহনবাগানের হয়ে অভিষেক ঘটালেন লা লিগার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হেক্টর ইয়ুস্তে ক্যান্টন। তবে তাঁর শুরুর মুহুর্ত প্রাথমিকভাবে শুভ হয় নি তাঁর দলের পক্ষে । বিশাল কায়েথের ভুলে আবাহনীর কর্নেলিয়াস খেলার ১৭ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দেন আবাহনীকে। মোহনবাগান কোচ ম্যাচ শুরুর আগে আক্রমণ রুখে ধীরে ধীরে আক্রমণে যাওয়ার কথা বললেও গোল খেয়ে মরিয়া হয়ে ওঠে। গোল শোধ হয় ৩৭ মিনিট। জেসন কামিন্স পেনাল্টি থেকে গোল করেন যদিও পোলটির কৃতিত্ব লিস্টন কোলাসোর। পেনাল্টি বক্সে তাঁকে ফাউল করায় রেফারি বাঁশি বাজিয়েছিলেন। প্রথমার্ধের শেষলগ্নে আবাহনীর একটি ধীর গতির শট বার পোস্টে লেগে ফেরে। কেউ বলটি ফলো না করায় রক্ষা পায় মেরিনার্স ব্রিগেড ।প্রথমার্ধের খেলা ১-১ গোলে শেষ হয়। স্বাভাবিকভাবেই দলের খেলায় খুশি ছিলেন না ফেরান্দো যা ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন জেসন কামিন্স। ভুলত্রুটি শুধরে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পরের অর্ধে শুরু থেকেই মোহনবাগান আক্রমণে যায়। সবুজ মেরুন আক্রমণের সামনে সামান্য কিছু সময় নিজেদের দুর্গ অরক্ষিত রাখতে পারলেও ৫৮ মিনিটে মিলাদের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে আবাহনী। দু মিনিটের মধ্যেই আবার গোল করে খেলায় নিজেদের রাশ মজবুত করে নেয় মোহনবাগান। আবার গোলের কারিগর ছিলেন সেই লিস্টন কোলাসো। হুগো বুমোসের শট আংশিক প্রতিহত হয়ে তাঁর কাছে আসে।তাঁর পাস থেকেই গোল করে যান সাদিকু। এরপরেই আবাহনী দ্রুত খেলা থেকে হারিয়ে যেতে থাকে। মোহনবাগানের সামনে বিক্ষিপ্তভাবে বলে সুযোগ আসলেও কাজে লাগানো যায়নি। আর এই ফাঁকে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করে নিজের রিজার্ভ বেঞ্চকে আরেকবার ঝালিয়ে নিলেন জুয়ান ফেরান্দো।।

About Post Author