Home » বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা

বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৪ অগস্ট: বন্যায় বিপর্যস্ত সমগ হিমাচল প্রদেশ। বিপর্যয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না হিমাচল প্রদেশের। চলতি সপ্তাহ থেকে হিমাচলের কুলুতে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির রোষে অসহায় গোটা রাজ্য। লাগাতার বৃষ্টির জেরে নতুন করে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তারই মধ্যে কুলুতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল কমপক্ষে সাতটি বাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। বুধবারও হিমাচল প্রদেশে প্রবল বৃষ্টির জেরে কুলু-মান্ডি হাইওয়েতেও ধস নামে। এর জেরে শতাধিক গাড়ি আটকে পড়েছে। ধসের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এসডিআরএফ। খবর দেওয়া হয়েছে এনডিআরএফ-এর টিমকেও।

আরও পড়ুন      বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরাখন্ড,একটানা প্রবল বৃষ্টিতে আচমকাই ভূমিধস অরুণাচল প্রদেশে

ধসের জেরে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। মৌসম ভবনের তরফে ইতিমধ্যেই হিমাচল প্রদেশে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেই জানানো হয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে বর্তমানে রাজ্যের ৭০৯টি সড়ক ধসের জেরে বন্ধ রয়েছে। কমপক্ষে ২২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই হাজারেরও বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে নয় হাজারের বেশি বাড়ি। এখনও পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, বন্যা বিপর্যস্ত হিমাচলের পরিস্থিতিকে জাতীয় বিপর্যয় হিসাবে ঘোষণা করার দাবিতে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। ঘরছারাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেছে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল। বুধবার থেকে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের একাধিক এলাকায় ফের শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। এর ফলে প্রবল বেগে জলস্তর বাড়ছে বিপাশা নদীর। সেই সঙ্গে একাধিক জায়গায় ধসের খবরও মিলেছে। বিপর্যস্ত একাধিক রাস্তা থেকে সেতু। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বহু এলাকা। হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে সমস্ত স্কুল, কলেজ। সেই সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে পর্যটকদের সেখানে না যাওয়ার। হিমাচল প্রদেশের বিকল হয়ে পড়েছে জল সরবরাহের ১৪৯টি প্রকল্প। গোটা রাজ্যের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যা ক্ষতি হয়েছে সেই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আরও এক বছর সময় লাগবে।

আরও পড়ুন     বন্যায় বিপর্যস্ত হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড! ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০ হাজার কোটি    


উল্লেখ্য, বর্ষার তাণ্ডবলীলায় প্রায় একমাস ধরে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ সহ সমগ্র উত্তর ভারত। একটানা ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে পথঘাট, ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি। ভূমিধসে ছিন্নভিন্ন পাহাড়ি এলাকা। রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ায় বিচ্ছিন্ন বহু জেলা। নেই বিদ্যুৎ, জল, ইন্টারনেট পরিষেবা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। সরকারি তথ্য বলছে, অন্তত ১৪৬ জন মারা গেছেন এই রাজ্যে। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলার ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে প্রচুর পর্যটক আটকে পড়েছেন। স্পিতি উপত্যকার চন্দ্রতালের কাছে এখনও পর্যন্ত আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হেলিকপ্টারে করে ওই অঞ্চল পরিদর্শন করছেন সরকারি আধিকারিকরা। সেইসঙ্গে দুর্যোগ চলছে উত্তরাখণ্ডেও। একাধিক ভূমিধসের কারণে বদ্রীনাথ জাতীয় সড়ক-সহ বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে।

About Post Author