সময় কলকাতা ডেস্ক,২৫ আগস্ট :কবি মধুমিতা শুক্লা হত্যায় দোষী সাব্যস্ত ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী অমরমনি ত্রিপাঠি মুক্তি পেতে চলেছেন।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হলেও সেই সাজা ১৬ বছর পরে মকুব করে দেওয়া হল যার ফলে মুক্তি পেতে চলেছেন উত্তরপ্রদেশের গ্যাংস্টার – রাজনীতিবিদ অমরমনি ত্রিপাঠি। অমরমনি ত্রিপাঠির সঙ্গে মুক্তি পেতে চলেছেন তাঁর স্ত্রী মধুমনি ত্রিপাঠিও।বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ সরকার অমরমনি ত্রিপাঠির মুক্তির নির্দেশ (রিলিজ অর্ডার )জারি করেছে।তার স্ত্রী মধুমণিও জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন।
নির্দেশিকায় জানা গিয়েছে,উত্তরপ্রদেশ সরকার জেলে আটক প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী অমরমণি ত্রিপাঠি (৬৭) এবং তার স্ত্রী মধুমণি ত্রিপাঠী (৬২), যারা মধুমিতা শুক্লা হত্যায় জড়িত থাকার জন্য গোরখপুর জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন,তাদের “অসময়ে ”[pre-mature ]মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।মধুমিতা শুক্লা ছিলেন একজন কবি, যাকে তার লখনউ বাসভবনে ২০০৩ সালের ৯ মে তারিখে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।অমরমণি ও মধুমণির মুক্তির আদেশ জারি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউপি কারা প্রশাসন ও সংস্কার বিভাগের ডিজি সত্য নারায়ণ সাবত।
মধুমিতা শুক্লাকে ছিলেন একজন কবি এবং তাঁকে যখন খুন কৱা হয় তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪। তিনি তাঁর বীর-রস কবিতার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এবং অনেক ‘কবি সম্মেলনে” ডাক পেতেন। লখিমপুর খেরির বাসিন্দা মধুমিতা ১৬ বছর বয়স থেকেই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করেছিলেন।তিনি তার কবিতায় রাজনৈতিক নেতাদের আক্রমণ করতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন।উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিবিদ অমরমণি ত্রিপাঠি, যিনি একজন প্রাক্তন বিধায়ক এবং সমাজবাদী পার্টির সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন, তিনি ছিলেন মধুমিতার কথিত প্রেমিক। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের পেপার মিল কলোনিতে একটি দুই কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন যেখানে তাঁকে দুই আততায়ী ক্লোস রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করেছিল। মধুমিতা তাঁর খুনের সময় সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন বলে জানা যায়।
মধুমিতার খুনী ক্ষমতাবান ছিলেন এবং ক্ষমতা ও রাজনীতির খেলা শুরু হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলির উপরে চাপ আসে বলে অভিযোগ ওঠে।ময়নাতদন্তের ও পরবর্তী ডিএনএ রিপোর্টে একের পর এক তথ্য সামনে আসে।জানা যায় যে, মধুমিতা যে ভ্রূণটি ধারণ করেছিলেন তার সাথে অমরমনি ত্রিপাঠির ডিএনএ মিলে যাচ্ছে ।রাজনীতিবিদ প্রথমে খুন হওয়া কবির সাথে সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন কিন্তু ডিএনএ -র প্রমাণ অকাট্য হওয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি টেকে নি। ২০০৭ সালে এই মামলায় অমরমণি ত্রিপাঠী, তার স্ত্রী মধুমণি ত্রিপাঠী এবং আরও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এখানে, উল্লেখ্য অমরমনি ত্রিপাঠি একাধিকবার দল বদল করেন এবং চারবারের বিধায়ক ছিলেন,২০০৭ সালে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে জেলে থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সম্প্রতি মধুমিতা শুক্লার বোন নিধি শুক্লা অভিযোগ করেন ও জানান, ত্রিপাঠীদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন কারণ তাঁর বোনের খুনিরা কারাগারের চেয়ে মুক্ত আকাশের তলায়, বাইরে বেশি সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে,আসামীরা বিভিন্ন কারণে শাস্তি মকুবের আবেদন জানাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত গ্যাংষ্টার-রাজনীতিবিদের আবেদনে উত্তরপ্রদেশ সরকার সাড়া দিলেন।।


More Stories
ফাইনালে লাল কার্ড দেখা পারেদেসকে ‘খু*ন করতে চেয়েছিলেন’ মেসি?
সাপের কামড় খেয়ে পাল্টা সাপকে কামড়
সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের ফাইল খুলল, সিআইডি পরিদর্শন ও পরিবারের দাবি