Home » বন্যায় বিপর্যস্ত হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড! ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০ হাজার কোটি

বন্যায় বিপর্যস্ত হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড! ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০ হাজার কোটি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ আগস্ট: বন্যায় বিপর্যস্ত সমগ্র সারা উত্তর ভারত। বিপর্যয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না হিমাচল প্রদেশের। চলতি সপ্তাহ থেকে হিমাচলের কুলুতে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রকৃতির রোষে অসহায় গোটা রাজ্য। এখনও অবধি মৃত্যু বেড়ে ৮০ জনে পৌঁছেছে। জলের তোড়ে নিখোঁজ অনেক। হিমাচলে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিপাশা নদী। নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়ি-ঘর। বিপর্যস্ত জনজীবন। উত্তাল বিপাশা নদীতে নিমেষে ভেসে গেছে পর্যটকদের একের পর এক গাড়ি। বাড়িঘর, দোকানপাট ভেসে গেছে। ধস নেমে রাস্তা বন্ধ। জলমগ্ন বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে হিমাচল প্রদেশের প্রবল বৃষ্টি পরিস্থিতিকে বিপর্যয় বলে ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু। ইতিমধ্যেই বৃষ্টি ও ধসের কারণে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। শিমলার মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের তলায় অন্তত ছয়জনের দেহ চাপা পড়ে রয়েছে বলে অনুমান। বন্যা বিপর্যস্ত হিমাচলের পরিস্থিতিকে জাতীয় বিপর্যয় হিসাবে ঘোষণা করার দাবিতে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। ঘরছারাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন    আবহাওয়ায় অস্বাভাবিক রদবদল, আগামী পাঁচদিন প্রবল দুর্যোগ, প্রভাব বঙ্গেও 

ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেছে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল। সব মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে গোটা হিমাচল প্রদেশে। এই পরিস্থিতিতে, শুক্রবার শিমলার মন্দিরের তলা থেকে আরও একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বুধবার থেকে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের একাধিক এলাকায় ফের শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। এর ফলে প্রবল বেগে জলস্তর বাড়ছে বিপাশা নদীর। সেই সঙ্গে একাধিক জায়গায় ধসের খবরও মিলেছে। বিপর্যস্ত একাধিক রাস্তা থেকে সেতু। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বহু এলাকা। হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে সমস্ত স্কুল, কলেজ। সেই সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে পর্যটকদের সেখানে না যাওয়ার। হিমাচল প্রদেশের ৫০৬টি রাস্তা এখনও বন্ধ হয়ে রয়েছে। বিকল হয়ে পড়েছে জল সরবরাহের ১৪৯টি প্রকল্প। গোটা রাজ্যের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যা ক্ষতি হয়েছে সেই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আরও এক বছর সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, বর্ষার তাণ্ডবলীলায় প্রায় একমাস ধরে বিপর্যস্ত হিমাচলপ্রদেশ সহ সমগ্র উত্তর ভারত। একটানা ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে পথঘাট, ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি। ভূমিধসে ছিন্নভিন্ন পাহাড়ি এলাকা। রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ায় বিচ্ছিন্ন বহু জেলা। নেই বিদ্যুৎ, জল, ইন্টারনেট পরিষেবা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। সরকারি তথ্য বলছে, অন্তত ১৩০ জন মারা গেছেন এই রাজ্যে। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলার ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে প্রচুর পর্যটক আটকে পড়েছেন। স্পিতি উপত্যকার চন্দ্রতালের কাছে এখনও পর্যন্ত আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হেলিকপ্টারে করে ওই অঞ্চল পরিদর্শন করছেন সরকারি আধিকারিকরা। সেইসঙ্গে দুর্যোগ চলছে উত্তরাখণ্ডেও। একাধিক ভূমিধসের কারণে বদ্রীনাথ জাতীয় সড়ক-সহ বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে।

About Post Author