সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ সেপ্টেম্বর: ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে’র অফিসের ফাইল ডাউনলোড বিতর্কের মাঝেই এবার ইডির এক আধিকারিককে কলকাতা থেকে গুয়াহাটিতে বদলি করা হল। ইতিমধ্যেই গুয়াহাটির ইডি অফিসে সেই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর যোগ দিয়েছেন। তবে এই বদলি নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, যে অফিসার কলকাতা থেকে গুয়াহাটিতে যোগ দিয়েছেন, ওই অফিসার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডডসের অফিসে তল্লাশির সময় ছিলেন। সেই তল্লাশিতেই অনৈতিকভাবে ফাইল ডাউনলোড করার অভিযোগ উঠেছিল। ইডি অফিসারদের দাবি, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে’র অফিসের ফাইল ডাউনলোডের সঙ্গে অফিসারের গুয়াহাটি যোগ দেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। ওই অফিসারের ২ বছর আগে গুয়াহাটি বদলি হয়েছিল। গত এপ্রিল মাসে তাঁকে কলকাতা শাখা থেকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি গুয়াহাটিতে যোগ দেন। কিন্তু তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে ২ মাসের জন্য কলকাতা নিয়ে আসা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থায় সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পেয়েছিল ইডি। তারপরই গত ২৬ আগস্ট লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার হিসেবরক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে সংস্থার কম্পিউটারে ১৬টি নতুন ফাইল চলে এসেছে। এই ফাইলগুলি তাঁদের কাছে নতুন। সোমবার গভীর রাতে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ২২ আগস্ট রাত ১২টার থেকে ১২ টা ১১ মিনিটের মধ্যে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীর। তিনটি ডেস্কটপ ইডি খতিয়ে দেখেছে এবং একটি ডেস্কটপের হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছে। বাকি দুটি ডেস্কটপ অফিসে দেখার সময়েই এই ১৬টি নতুন ফাইলের বিষয় তাঁদের নজরে আসে। সেই সময়েই এই নতুন মাইক্রোসফ্ট এক্সেল ফাইল তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ চন্দন বাবুর। ইতিমধ্যেই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট বাজেয়াপ্ত করে ইডি। একইসঙ্গে আরও অনেক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার যাদবপুরের রেজিস্ট্রারকে হুমকি চিঠি পাঠানো সেই অধ্যাপক রানা রায়

ওই নথিগুলির মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে রুজিরার অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট পাওয়া গিয়েছে। ওই একই ব্যাঙ্কে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা এলাহাবাদ শাখার অ্যাকাউন্টেরও ১৪২ পাতার স্টেটমেন্ট বাজেয়াপ্ত করেছেন ইডির আধিকারিকরা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ওই সংস্থার ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন হিসাব নিকাশের নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এমনকী সংস্থার কর্মীদের প্রোফেশনাল ট্যাক্স সংক্রান্ত নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও আলিপুর এবং বিষ্ণুপুরে নথিভুক্ত হওয়া বেশ কিছু জমির দলিল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে ছিলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কালীঘাটের কাকু। তাঁরই সংস্থা এসডি কনসালটেন্সি। ইডির চার্জশিটে আগেই বলা হয়েছে, বিভিন্ন দফায় এসডি কনসালটেন্সির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস-এর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মোট ৯৫ লাখ ১ হাজার টাকা সেই অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলেই সূত্রের খবর।


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
তৃণমূল ও সিপিএম প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর শপথবাক্য ও মন্ত্রগুপ্তি