Home » চন্দ্রবাবু নাইডুর গ্রেফতারির প্রতিবাদে অন্ধ্রজুড়ে বিক্ষোভ-অনশন, সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতাও

চন্দ্রবাবু নাইডুর গ্রেফতারির প্রতিবাদে অন্ধ্রজুড়ে বিক্ষোভ-অনশন, সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতাও

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ সেপ্টেম্বরঃ স্কিল ডেভেলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় শনিবারই গ্রেফতার হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি প্রধান এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তাঁর বিরুদ্ধে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের স্কিল ডেভেলপমেন্ট স্কিমে ৩৭১ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এমনকী একই অভিযোগে আটক করা হয়েছে চন্দ্রবাবুর ছেলে নারা লোকেশকেও। এসবের মাঝেই চন্দ্রবাবু নাইডুর গ্রেফতারির প্রতিবাদে সোমবার গোটা অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে বনধের ডাক দিয়েছিল তেলেগু দেশম পার্টি। রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা দেশে রাজনৈতিক মহলেও চন্দ্রবাবুর গ্রেফতারের প্রভাব পড়েছে ব্যাপক। এবার তেলেগু সম্প্রদায়কে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন টিডিপি নেতা তথা চন্দ্রবাবু নাইডুর ছেলে নারা। ইতিমধ্যেই চন্দ্রবাবুর গ্রেফতারিকাণ্ডে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার গোটা ঘটনায় সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘চন্দ্রবাবুকে গ্রেফতারির বিষয়টা মোটেও ভালো লাগেনি। কোনও প্রমাণ থাকলে তদন্ত করুক, অসুবিধা নেই। কিন্তু প্রতিহিংসা থেকে এমন কিছু না করাই ভালো।’

আরও পড়ুন   রাজ্য মন্ত্রিসভায় রদবদল,পর্যটন দফতর হাতছাড়া বাবুলের

অন্যদিকে, অভিনেতা তথা জনসেনা পার্টির সভাপতি পবন কল্যাণের দলও সোমবার এই বনধে সমর্থন করেছিলেন। টিডিপি দলের সমস্ত কর্মীরা সাধারণ মানুষকে এই বনধ সফল করতে আর্জি জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, রবিবার ভোরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চন্দ্রবাবুকে বিজয়ওয়াড়ার অ্যান্টি- কোরাপশন ব্যুরো কোর্টে পেশ করা হয়। এরপর আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখা হবে বলেই জানা গিয়েছে। এদিন রাতেই তড়িঘড়ি তাঁকে রাজামুন্দ্রি সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। প্রসঙ্গত, স্কিল ডেভেলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় শনিবার ভোরেই অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনে ৩৭১ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছিল। এই দুর্নীতির মূল চক্রী ছিলেন চন্দ্রবাবু নাইডু।


এরপর ২০২১ সালে স্কিল ডেভলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, অসততা, অসাধুভাবে সম্পত্তি বিতরণ সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনেও অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এরপরই গত মার্চ মাস থেকে সেই দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে অন্ধ্রপ্রদেশের সিআইডি। জানা গিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪, ৩৭, ১০৯, ১২০(৮), ১৬৬, ১৬৭, ২০১, ৪০৯, ৪১৮, ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১ নং ধারার অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির পর থেকেই তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তেলুগু দেশম পার্টির সমর্থকরা। আদালত চত্বরেও শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ।

About Post Author