Home » রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আইনি নোটিস প্রাক্তন উপাচার্যদের

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আইনি নোটিস প্রাক্তন উপাচার্যদের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে নয়া বিতর্ক। তারই মধ্যে এবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আইনি নোটিস প্রাক্তন উপাচার্য দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১২ জন প্রাক্তন উপাচার্যদের। সূত্রের খবর, ই-মেল মারফত বৃহস্পতিবার রাজভবনে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন প্রাক্তন উপাচার্যরা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে উত্তর দিতে হবে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ‘অন্যায় হস্তক্ষেপ’ করছেন। এর আগে এই অভিযোগ তুলেই গত শুক্রবার সকালে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসছিলেন তৃণমূলপন্থী উপাচার্য সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের উচ্চশিক্ষায় অব্যবস্থা তৈরি করছেন রাজ্যপাল। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলে স্বাক্ষর করছেন না তিনি। রাজ্যের সরকারকে সম্মান করছেন না। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি রাজ্যপাল প্রচুর মিথ্যা প্রচার করেছেন বলেও দাবি তাদের। এসবের প্রতিবাদেই ওইদিন রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন উপাচার্য সংগঠন।

এসবের মাঝেই রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কাজে গতি বাড়াতে ইতিমধ্যেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। যার নাম ‘স্পিড প্রোগ্রাম’। মঙ্গলবার রাতেই রাজভবনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেখানে বলা হয়েছে,‘শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ২৫ টি কমিটি গঠনের কথা। এমনকী যা কাজ বাকি রয়েছে সেগুলি দ্রুত শেষ করার কথাও বলা হয়েছে। রাজভবনের তরফে ইতিমধ্যেই একটি মনিটরিং সেলও চালু করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা যে কোন সময় রাজ্যপালের ওই মনিটরিং সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। একটি হেল্পলাইন নম্বর ও ইমেল চালু করা হয়েছে। হেল্পলাইন নম্বরটি হল ০৩৩-২২০০১৬৪২। ইমেল হল- aamnesaamne.rajbhavankolkata@gmail.com।

আরও পড়ুন     কর্মক্ষেত্রে সম্মান বৃদ্ধি, মুল্যবান সময় নষ্ট করবেন না! জানুন রাশিফল

উল্লেখ্য, রাজ্য-রাজভবন সংঘাত নতুন নয়। বিভিন্ন ইস্যুতে এর আগেও একাধিকবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের মতানৈক্য হয়েছে। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উড়িয়ে রাজ্যের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজভবনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, ‘আচার্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্যই। তাঁর অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মী উপাচার্যের নির্দেশই মেনে চলবেন, অন্য কারও নয়। সরকার তাঁদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।’ এই নির্দেশিকার ফলে নতুন করে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে ওঠে। এর আগেও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অস্থায়ী ১৪ জন উপাচার্য নিয়োগ করেছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই রাজ্যপাল যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন, তাঁদের উপাচার্য হিসেবে পারিশ্রমিক ও ভাতা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর।

About Post Author