Home » পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার সিবিআই স্ক্যানারে বরানগর পুরসভা

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার সিবিআই স্ক্যানারে বরানগর পুরসভা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বরঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রাজ্যের পুরসভাগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য। শীর্ষ আদালতেও খারিজ হয়ে গিয়েছে রাজ্যের মামলা। ডায়মন্ডহারবার,উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, ব্যারাকপুর, পানিহাটি, কামারহাটি, ঝালদার পর এবার সিবিআই স্ক্যানারে বরানগর পুরসভা। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে গতি বাড়াতে বরানগর পুরসভার ৩২ জনকে তলব করেছে সিবিআই। মূলত বরানগর পুরসভার শিক্ষক, ক্লার্ক,গাড়ির চালক ও মজদুর বিভাগের কর্মীদের তলব করা হয়েছে এই নোটিসে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিবিআই দফতরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের ১২টি পুরসভাকে নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। রাজ্যের ওই ১২টি পুরসভার কাছেই ২০১৪ সাল থেকে কবে, কোথায়, কাকে নিয়োগ করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল গ্রেফতার হওয়ার পর। ইডি আদালতে দাবি করেছিল, উদ্ধার হওয়া নথি দেখে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৬০টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। তারপরেই পৃথকভাবে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে গত ৭ জুন পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে রাজ্যের ১৪ টি পুরসভা সহ ২০ টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। বিধাননগরের পুর দফতরের নগরায়ন দফতরেও চলে তল্লাশি। বিচারপতি অভিজিত্ গঙ্গোপাধ্যায় পুর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। কিন্তু, সেখানেও ধাক্কা খায় রাজ্য। সর্বোচ্চ আদালত রক্ষাকবচ দেয়নি। মামলায় যায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। সেখানেও এই নির্দেশ বজায় থাকে। রাজ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে যায়।

আরও পড়ুন    জ্যামাইকাতে খাবার নিয়ে গৃহবিবাদ, ভাইয়ের হাতে বোন খুন

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল এখন ইডির জালে। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়নের অফিস থেকে পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়েই একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য এক একরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি।

About Post Author