সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে কাটল জট। অবশেষে ভোটে জেতার ২২ দিন পর রাজভবনে শপথ নিলেন ধূপগুড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়। শনিবার রাজভবনে বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে শপথ বাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার উপ মুখ্য সচেতক তাপস রায়। সেইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্মলবাবুর স্ত্রী ও দুই কন্যা। যদিও এদিনের অনুষ্ঠানে বিধানসভার অধ্যক্ষ, পরিষদীয় মন্ত্রী কেউই উপস্থিত ছিলেন না। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার রাজভবনে কোনও বিধায়কের শপথ পাঠ হল।
আরও পড়ুন কাটল জট, ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথগ্রহণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করল রাজভবন

উল্লেখ্য, ধূপগুড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের শপথগ্রহণকে ঘিরে জটিলতা ক্রমে বেড়েই চলেছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়। চার হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর নব বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়ের শপথ সংক্রান্ত ফাইল রাজভবনে পাঠায় রাজ্য সরকার। অভিযোগ ওঠে, এতদিন পর্যন্ত রাজভবনেই সেই ফাইল পড়েছিল। রাজ্যপাল সেই ফাইলে এতদিন সই না করে পনেরো দিন ধরে ফেলে রেখেছিল। তৃণমূল সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল বিধানসভার পরিবর্তে ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান রাজভবনে করতে চান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সরাসরি ধূপগুড়ির বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে রাজ্যপাল ফোনও করেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার গঠনের সময় ছাড়া মাঝে কোনও উপ নির্বাচন হলে জয়ী বিধায়কদের শপথের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব দেন রাজ্যপাল। এমনকী রাজ্যপাল নিজেও শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন। কিন্তু সাধারণত, বিধায়কের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান বিধানসভাতেই হয়ে থাকে। তার পরিবর্তে রাজভবনে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান করতে চাওয়ায় বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। এই ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাতের আবহ দেখা দিয়েছিল।

এরপর নির্মলবাবুর শপথ গ্রহণের সময় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের হাতে এসে পৌঁছয় শপথ গ্রহণের চিঠি। জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথ গ্রহণের চিঠিটি ২১ সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছিল। আর রাজভবন থেকে সেটি পাঠানো হয় গত ২২ সেপ্টেম্বর। ২৩ তারিখ শপথ গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু সেই চিঠি নির্মলবাবু হাতে পান ২৫ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ সোমবার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক চাপানউতোর। যদিও চিঠিটি হাতে পাওয়ার পরই নির্মলবাবু রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী তথা শাসক দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোটা বিষয়টি জানান। এরপরই পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব বলেন, ‘একজন নতুন বিধায়ক হয়েছেন। তিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন। মানুষের কাজ করবেন। কিছু মানুষের শংসাপত্র তো দিতে পারবেন। কিন্তু রাজ্যপাল কেন এমন করছেন?’


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?