সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ অক্টোবরঃ ট্রেন বাতিল হওয়ায় দলীয় কর্মীদের জন্য ভলভো বাসের বন্দ্যোবস্ত করেছিল তৃণমূল। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। ঝাড়খণ্ডের কোডারমার কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তৃণমূলের দিল্লিগামী একটি বাস। রবিবার সকাল ৫টা নাগাদ ঝাড়খণ্ডের কোডার্মা এলাকায় মাটির ঢিপিতে ধাক্কা মারে বাসটি। বাসে ৩৩ জন তৃণমূল কর্মী ছিলেন। তারা সকলেই জখম হয়েছেন। জখম যাত্রীদের উদ্ধার করে পুরুলিয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বাসের সামনের অংশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর এই বাস দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু রাজনৈতিক তরজা।

আরও পড়ুন গরু পাচার মামলায় বোলপুরের তৃণমূল কাউন্সিলার সহ পুরসভার দুই কর্মীকে তলব ইডির
বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘আসলে সাধারণ মানুষকে বলি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি ঝাড়খণ্ডে হয়েছে তাও ভাগ্য ভাল। আমাদের রাজ্যে হলে আমাদের উপর দোষ দিত। যে কোনও দরকারে আহতরা যেন নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করেন।’ যদিও গোটা বিষয়টিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির টুইটের পাল্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবাংশু লেখেন, ‘নিজেই বিষ খাওয়ায়। তারপর ঘটা করে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলে চলো হাসপাতালে নিয়ে যাই।’ প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখার অভিযোগে আগামী ২ এবং ৩ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিবাদ ও ধরনা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যের ১০০ দিনের কাজের শ্রমিক ও জব কার্ড হোল্ডারদের দিল্লিতে দিয়ে গিয়ে ধরনা কর্মসূচির ডাক দেয় শাসকদল।

নিজেদের জব কার্ড হাতে নিয়েই দিল্লিতে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। এমতাবস্থায় শনিবার রেলের কাছে বিশেষ ট্রেন চেয়েও পায়নি তৃণমূল। চিঠি মারফত রেল জানিয়েছে, ‘৩০ তারিখ আপনাদের তরফে যে স্পেশ্যাল ট্রেনের অনুরোধ করা হয়েছিল তা আমরা খতিয়ে দেখেছি। কিন্তু, এই মুহূর্তে সেই আবেদন রাখা সম্ভব নয়। ট্রেন পাওয়া যায়নি।’ তাই শেষ মুহূর্তে বাসই ছিল ভরসা। তাই শনিবার সকাল না হতেই ৫০টি বাস প্রস্তুত করে ফেলে রাজ্যের শাসক দল। প্রতিটি বাসে ৭০ টি সিট ছিল। ভলভো সংস্থার স্লিপার বাসগুলিতে যাত্রীদের জন্য খাবার, ওষুধ, মেডিক্যাল কিটের যথেষ্ট ব্যবস্থাও ছিল বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক ও জব কার্ড হোল্ডার মিলিয়ে মোট ৫ হাজার জনকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এসবের মাঝেই দিল্লি পৌঁছনোর আগেই এমন দুর্ঘটনা।


More Stories
বিচ্যুতি থাকবেই, ফুলপ্রুফ সিস্টেম বলে কিছু হয়না : শমীক ভট্টাচার্য
মহেশতলায় বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিকের মৃত্যু
অনুমতি ছাড়া তৃণমূলের মিছিল, গ্রেফতার কুণাল ঘোষ