সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ অক্টোবর: প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় এবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে বর্তমান সভাপতি গৌতম পালকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বুধবার সন্ধে ৬টার মধ্যে গৌতমবাবুকে নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআই-এর মুখোমুখি হতে বলেছিলেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশের পর নির্ধারিত সময়ের আগেই সিবিআই অফিসে পৌঁছে যান পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল। এরপর তিনি পর্ষদের অফিসে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে পর্ষদ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এদিন বিকেলে পর্ষদের অফিসেই ছিলেন গৌতমবাবু। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর নিজাম প্যালেস থেকে বেরোণ পর্ষদ সভাপতি। এদিন সিবিআই অফিস থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল জানান, ‘কলকাতা হাইকোর্ট আমাকে সিবিআই অফিসে আসতে বলেছিল, আমি এসেছি। যা জানতে চাওয়া হয়েছিল জানিয়েছি।’
আরও পড়ুন দুর্গাপুরের দুর্গাঃ শহরের ক্যানভাসে গ্রামের দুর্গা
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিকবার বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকী প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপরই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্ত শুরু করেছিল। কিন্তু সিবিআই তদন্ত একেবারেই সন্তুষ্ট নয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এহেন পরিস্থিতিতে গত মাসেই সিট প্রধান অশ্বিন শেণভিকে আদালতে তলব করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেসময় বিচারপতি বলেন, ‘সিবিআই ফেল করেছে সেটা সারা দেশ জানুক। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের ভূমিকা খুবই খারাপ। এমন অনেক প্রশ্নই ঠিক মত করেননি সিবিআই আধিকারিকরা।’ যদিও এর আগেও বহুবার প্রাথমিকে নিয়োগের মামলায় সিবিআইকে ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন সিবিআই অফিসারকে নিযুক্ত করলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়
উল্লেখ্য, প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। চলতি মাসেই এই মামলায় হাইকোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেয়েছেন প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষিকা। হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত বাতিল হচ্ছে না নিয়োগ। নতুন করে আর কোনও ইন্টারভিউ দিতে হবে না। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়ার নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে সেই মামলা হাইকোর্টে পাঠিয়েছিল। হাইকোর্টেই এখনও চলছে মামলার শুনানি। অভিযোগ ছিল, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যাপটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়নি। তাই ওই নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে তাঁদেরকে ইন্টারভিউ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপরই হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩২ হাজার শিক্ষকদের চাকরি বাতিল করা যাবে না। এমনকী নিয়ম মেনে তাঁরা বেতনও পাবেন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি