সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ অক্টোবর: নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার সিবিআই অফিসার স্নেহাংশু বিশ্বাসকে ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম’-এ যুক্ত করল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। স্নেহাংশু বিশ্বাসকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে কলকাতায় বদলি করে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে কর্মরত রয়েছেন। দুর্গাপুজোর ছুটির পর যাবতীয় রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলেই জানিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিবিআই অফিসার স্নেহাংশু বিশ্বাসকে বদলি করা যাবেনা বলেই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
আরও পড়ুন গরু পাচার মামলায় ফের পিছিয়ে গেল অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের শুনানি
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ডিআইজি সিবিআই অশ্বিন সেনভিকে সিট পুনর্গঠনের নির্দেশ কার্যকর করতে বলেন। এরপর আইনজীবী দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত দাশগুপ্ত এদিন আদালতে জানান, রাজ্য প্রাথমিক কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। এরপরই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ‘আদালতকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরক্ত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে প্রাইমারি বোর্ড অফ এডুকেশন।’ এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৯ নভেম্বর হবে বলেই সূত্রের খবর।

এদিকে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবারই তলব করা হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে। অভিষেকের আপ্তসহায়ক হাজিরা দেবেন কিনা তা নিয়ে সোমবার সকাল থেকেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। অবশেষে ইডির তলবে সাড়া দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রথমবার হাজিরা দেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক। এদিন বেলা বারোটার কিছু সময় পর ইডি দফতরে পৌঁছন সুমিত। সয়াক্ল থেকেই কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল সিজিও কমপ্লেক্স চত্বর। সূত্রের খবর, প্রাথমিক নিয়োগে দুর্নীতি সহ লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সম্পর্কিত বিষয়ে গোয়েন্দারা সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়।
আরও পড়ুন মেসির জোড়া গোলে জয় আর্জেন্টিনার, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে হার ব্রাজিলের
যদিও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে তলব করলে এই তলবের বিরোধিতা করে রক্ষাকবচ চেয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু, বিচারপতি রক্ষাকবচ দেননি। ইডির বিচারপতিকে সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। এ বিষয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বলেন, ‘অভিষেক ওদের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। অভিষেককে কোনও ভাবে সামলাতে পারছে না বলে তাঁর স্ত্রী, তাঁর বাবা-মা, তাঁর পিএ – সবাইকে তলব করছে। এসব ষড়যন্ত্র। তৃণমূলকে চাপে রাখার চেষ্টা। তবে এভাবে তলব করে কোনও লাভ হবে না।’ এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিকবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছিল ইডি। তিনি সমস্ত নথিপত্র নিয়ে হাজিরাও দিয়েছেন। এমনকী অভিষেকের মা-বাবাকেও তলব করা হয়েছিল গত সপ্তাহে। যদিও তাঁরা কেউ ইডি দফতরে হাজিরা দেননি চলতি সপ্তাহে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল।


More Stories
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ