Home » রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত বালুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত বালুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ অক্টোবরঃ রেশন দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার ইডির হাতে গ্রেফতার হন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ওই দিনই তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এরপরই এজলাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে বমি করেন, জ্ঞান হারান। ওইদিন আদালতের নির্দেশে তাঁকে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রবিবার হাসপাতালের তরফে মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে জানানো হয়েছে জ্যোতিপ্রিয়র ‘মেডিক্যাল স্টেটাস’ স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখার পর জানানো হবে যে, কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে তাঁকে। রবিবার হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন করে জ্যোতিপ্রিয়র আর কোনও সমস্যা দেখা দেয়নি। দুপুরের পর হল্টার মনিটর খোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি বাম হাতে জোর পাচ্ছেন না। সারভাইক্যাল স্পন্ডলাইটিসের জন্যই এই সমস্যা কি না, তা দেখতে সার্ভাইকাল স্পাইনের এমআরআই করা হবে এবং মস্তিষ্কের এমআরআই করে দেখে নেওয়া হবে বলেই মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ডাক্তারদের পরামর্শমতো আজ সকালে বুকের ফিজিওথেরাপিও হয়েছে তাঁর। চিকিৎসকদের সূত্রের খবর, গত এক বছর ধরে ক্রনিক কিডনি ডিজিজের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। এই সমস্যার কারণেই ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাকিদের তুলনায় সামান্য বেশি। জানা গিয়েছে, ডায়াবেটিক ডায়েটে রাখা হচ্ছে জ্যোতিপ্রিয়কে। ডায়াবেটিস থাকলে রোগীকে যা যা খেতে দেওয়া হয়, যতটা মেনে খেতে দিতে হয়, সেই খাবারই দেওয়া হচ্ছে মন্ত্রীকে। এর আগে শনিবার সকালে এক দফায় ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম পরীক্ষা করা হয়। সব পরীক্ষার রিপোর্টই ঠিক আছে বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর।
এদিকে, রবিবারই রেশন দুর্নীতি মামলায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। এদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই বেশকিছু নথি হাতে নিয়ে ইডি দফতরে হাজিরা দেন। তবে ইডি দফতরে খুব কম সময়ই ছিলেন প্রিয়দর্শিনী। এদিন সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা জ্যোতিপ্রিয়-কন্যাকে প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়েই গাড়িতে উঠে যান।

আরও পড়ুন   জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ১৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির

ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা দুটি কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। দু’টি কোম্পানি বাঁকুড়ার ঠিকানায় রেজিস্টার্ড বলেই জানা গিয়েছে। শুক্রবারই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আপ্তসহায়ক অমিত ইডিকে জানিয়েছিলেন, ওই সংস্থা দুটি থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নির্দেশে ২০ কোটি টাকা সরানো হয়েছিল। এরপরই দুটি কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ কোটি টাকা ফ্রিজ করে ইডি। রেশন দুর্নীতির তদন্তে গতি বাড়াতে ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ২০টিরও বেশি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এই মোবাইলগুলি যেমন বনমন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের রয়েছে, তেমনই বাকিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠদেরও মোবাইলও রয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই মোবাইল ডি-কোড করে তথ্যের সন্ধান শুরু করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এই মোবাইলগুলির মধ্যেই রেশন দুর্নীতির সমস্ত তথ্য লুকিয়ে রয়েছে বলেই দাবি ইডির।

About Post Author