Home » প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ মিলল না পর্ষদ সভাপতি গৌতম পালের

প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ মিলল না পর্ষদ সভাপতি গৌতম পালের

 
সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ অক্টোবরঃ মিলল না রক্ষাকবচ। সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি গৌতম পাল এবং পর্ষদের ডেপুটি সেক্রেটারি পার্থ কর্মকার। তাঁদেরকে প্রাথমিক নিয়োগ দু্র্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সিবিআই জেরার ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গৌতম-পার্থ। কিন্তু মিলল না ‘সুপ্রিম কবচ’। ওএমআর শিট কারচুপি মামলায় গত ১৮ অক্টোবর গৌতম পাল এবং পার্থ কর্মকারকে সিবিআই জেরার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রয়োজনে তাঁদের হেফাজতে নিয়েও জেরার করতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি।
তার প্রেক্ষিতেই গত ১৯ অক্টোবর টানা ৫ ঘণ্টা গৌতম পালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। কিন্তু হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এরপরই সুপ্রিম কোর্টে দারস্থ হন পর্ষদের বর্তমান সভাপতি গৌতম পাল। সোমবার সেই আবেদনে সাড়া দেননি বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস এবং বেলা এম ত্রিবেদী। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যদি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করা হয়, তাহলে গ্রেপ্তারির আশঙ্কা কেন? এদিন আদালতে শুনানি চলাকালীন গৌতম পালের আইনজীবী বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। সেখানে পর্ষদের বর্তমান সভাপতি গৌতম পালকে তলবের কারণ কী? এই মামলায় সিবিআইয়ের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।’  
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিকবার বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকী প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপরই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্ত শুরু করেছিল। কিন্তু সিবিআই তদন্ত একেবারেই সন্তুষ্ট নয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এহেন পরিস্থিতিতে গত মাসেই সিট প্রধান অশ্বিন শেণভিকে আদালতে তলব করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেসময় বিচারপতি বলেন, ‘সিবিআই ফেল করেছে সেটা সারা দেশ জানুক। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের ভূমিকা খুবই খারাপ। এমন অনেক প্রশ্নই ঠিক মত করেননি সিবিআই আধিকারিকরা।’ যদিও এর আগেও বহুবার প্রাথমিকে নিয়োগের মামলায় সিবিআইকে ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। দু’মাস আগেই এই মামলায় হাইকোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেয়েছেন প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষিকা। হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত বাতিল হচ্ছে না নিয়োগ। নতুন করে আর কোনও ইন্টারভিউ দিতে হবে না।

About Post Author