সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ নভেম্বর: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ইস্যুতে সরগরম দেশের রাজনীতি। ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগের তদন্তে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজই মহুয়া মৈত্রকে তলব করেছিল লোকসভার এথিক্স কমিটি। সেই তলব মত এথিক্স কমিটিতে হাজিরা দিলেম মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সংসদ ভবনে পৌঁছন তৃণমূল সাংসদ।তবে হাজিরার আগেই প্রকাশ্যে এল বিস্ফোরক তথ্য। সূত্রের খবর, মহুয়া মৈত্রের সংসদীয় ই-মেইল আইডিতে প্রায় ৪৭ বার লগ ইন করা হয়েছিল দুবাই থেকে। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে ২ কোটি টাকা ও বিভিন্ন দামি উপহার নিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এর বদলে তিনি ওই ব্যবসায়ীর সাজিয়ে দেওয়া প্রশ্নই সংসদে করতেন। লোকসভায় আদানি ইস্যু নিয়ে করা ৬৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৫০টিরও বেশি প্রশ্ন ওই ব্যবসায়ীরই সাজিয়ে দেওয়া ছিল।
আরও পড়ুন নিজের পর্যবেক্ষণ শক্তি যাচাই করতে চান? ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বের করুন
এই প্রশ্নগুলি করার জন্য তৃণমূল সাংসদ তাঁর সংসদীয় ইমেইল আইডির লগ ইন ও পাসওয়ার্ডও দুবাইয়ের ব্যবসায়ীকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। বিজেপি সাংসদের সঙ্গে এই একই অভিযোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা মহুয়া মৈত্রের প্রাক্তন প্রেমিক জয় অনন্ত দেহদ্রাই। পরে দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানিও সম্প্রতি হলফনামা প্রকাশ করে জানান যে আর্থিক উপহারের বিনিময়ে মহুয়া মৈত্র তাঁর হয়ে সংসদে প্রশ্ন করতেন। এর জন্য লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ডও দিয়েছিলেন মহুয়া। বুধাবারই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মহুয়া মৈত্রের সংসদীয় আইডিটি দুবাই থেকে কমপক্ষে ৪৭ বার খোলা হয়েছিল। উল্লেখ্য, শিল্পপতি দর্শন হিরানন্দনীর থেকে উপহার এবং অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের এই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে সংসদের এথিক্স কমিটি।
আরও পড়ুন ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন মামলায় হিরানন্দানিকেও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি মহুয়ার
চলতি সপ্তাহেই নিশিকান্ত এক্স হ্যান্ডলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর চিঠি পোস্ট করে মহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন। তার জবাবে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন মহুয়া। সেই পোস্টে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ লিখেছেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর পাঠানো চিঠি জাল ডিগ্রিধারীর কাছে আছে শুনে খুশি হয়েছেন তিনি। অপেক্ষা করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক কবে বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের ঘরে ফর্জি দুবের অবৈধ অনুপ্রবেশের তদন্ত করবে।’ যদিও নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ ছিল, মহুয়া যখন ভারতে, তখন দুবাই থেকে তাঁর সংসদীয় আইডিতে লগইন করা হয়েছিল হিরানন্দনির তরফে। এতে বিঘ্নিত হয়েছে গোটা দেশের নিরাপত্তা। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস সেন্টার-কে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে বলে দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।


More Stories
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দুটি দাবি মেনে নিল কেন্দ্রীয় সরকার
শিক্ষা দুর্নীতিকে গুরুতর পাপ বলার পরেও বিরোধীদের কাঠগড়ায় প্রধানমন্ত্রী
শতাধিক মহাকাশ বিজ্ঞানীর ইস্তফায় নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রীয় সরকারের