সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ নভেম্বরঃ কালীপুজোর পরের দিন সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে শ্যুট আউটের ঘটনা ঘটে। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীদের হামলায় মৃত্যু হয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতির। মৃত ওই পঞ্চায়েতের সদস্যের নাম সইফুদ্দিন লস্কর। মৃতের স্ত্রী বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের পঞ্চায়েতের প্রধান বলেই জানা গিয়েছে। তৃণমূল নেতার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা গ্রাম। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল একের পর এক বাড়ি। এবার এই ঘটনায় সঙ্গে যুক্ত থাকা মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতারির দাবি নিয়ে সোমবার জয়নগর থানা ঘেরাও কর্মসূচি বামেদের।
আরও পড়ুন উৎসাহে কিছুটা ভাটার টান, তারমধ্যেও আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে কোন কোন দল?
গত ১৩ নভেম্বর বাড়ির কাছে স্থানীয় মসজিদে নামজ পড়তে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতিদের গুলিতে মৃত্যু হয় জয়নগরের বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সইফুদ্দিন লস্করের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ জন দুষ্কৃতীর ছোড়া গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তাঁর শরীর। পালানোর সময় একজনকে ধরে ফেলেন ক্ষিপ্ত জনতা। অভিযোগ, গণপিটুনির জেরে মৃত্যু হয় সাহাবুদ্দিন লস্কর নামে ওই অভিযুক্তের। এরপর অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি হয়ে ওঠে বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের দলুয়াখাঁকি গ্রাম। গ্রামে প্রায় ২০-২৫ টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় হামলাকারীরা। শুধু আগুন নয় ২০-২৫ টি বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এরপরও গোটা গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে যায়। গ্রামের মহিলা ও শিশুরা আশ্রয় দক্ষিণ বারাসাতের সিপিএমের দলীয় কার্যালয়। গ্রামবাসীদের আভিযোগ তৃনমূল নেতা সাইফুদ্দিন লস্করের খুনের ঘটনায় পর গ্রামের মধ্যে থাকা সিপিএম কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে বেচেবেছে হামলা ও আগুন লাগায় হামলাকরীরা।
এরপর কেটে গিয়েছে কয়েকটা দিন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে গ্রাম। গ্রামের অসহায় মানুষদের সাহায্য জন্য এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। গ্রামে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের গ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সামগ্রী বিতরণ করা হয়। দলুয়াখাকিতে বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জয়নগর থানার পুলিশ। কিন্তু এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার গ্রামের মানুষদের বাড়ি জ্বালানোর ঘটনায় সঙ্গে যুক্ত থাকা মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি নিয়ে সোমবার জয়নগর থানা ঘেরাও কর্মসূচী নিলেন বাম নেতৃত্ব। সোমবার বিকালে সিপিএমের বর্ষিয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তী ও কান্তি গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে কয়েক শো বাম কর্মী সমর্থকরা জয়নগর থানা ঘেরাও করে। বামেদের দাবি, দলুয়া খাকিতে বাড়ি জ্বালানো ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে ও সর্বস্বান্ত মানুষদের সমস্ত রকম ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নিতে হবে প্রশাসনকে।


More Stories
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
প্রাক্তন বিধায়ক রফিকুরের ভাই আনিস গ্রেফতার