সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ ডিসেম্বরঃ উত্তরকাশীর নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ ধসের ঘটনার টাটকা স্মৃতি এখনও দগদগে। ফের প্রায় একই ধরনের দুর্ঘটনা। এবার গুদামঘরের ইউনিট ধসে পড়ে গমের বস্তার নীচে আটকে পড়লেন ১০ জনের বেশি শ্রমিক। কর্নাটকের বিজয়পুরা শিল্পতালুক এলাকায় একটি গুদামে সোমবার রাতে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। সেই গুদামের একদিকে মজুত করা ছিল সারি-সারি গমের বস্তা। হঠাৎই গুদাম ঘরের চারটি সেট ধসে পড়ে। কিছু বোঝার আগেই সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা গমের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান। ১০ জনের বেশি শ্রমিক গমের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তাঁদের উদ্ধার করতে আসে পুলিশ, দমকলবাহিনী।

আরও পড়ুন মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে খেলা ফুটবলার এবার গোল করলেন রাজনীতির ময়দানে
যদিও দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও শ্রমিকদের উদ্ধার করা যায়নি। অবশেষে শ্রমিকদের উদ্ধার করতে বুলডোজার নামানো হয়। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত মাত্র ৩ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতি সেটে ১২০ টন গম ছিল। গুদাম ঘরের মধ্যেই শ্রমিকেরা আটকে রয়েছেন। প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক আটকে রয়েছেন। তার মধ্যে ৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের জন্য উদ্ধারকাজ চলছে। দুটি ক্রেন ও চারটি আর্থ মুভার দিয়ে উদ্ধারকাজ চলছে। উল্লেখ্য, দীপাবলির দিন উত্তরকাশীর নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ধস নামে। টানেলের প্রবেশ পথ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে এদিন ধস নামে। আর তাতেই ঘটে যায় বিপত্তি। ধসের জেরে ভিতরে আটকে পড়েন কমপক্ষে ৪০ জন শ্রমিক। শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশকর্মীরাও।

গোটা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, উত্তরকাশীর ওই টানেলের প্রবেশ পথ থেকে প্রায় ২৮০০ মিটার ভিতরে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। সেসময় ধস নামে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এসডিআরএফ-এর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং জীবন রক্ষার্থে পাইপে করে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। টানা ১৭ দিন উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকার পর অবশেষে গত মঙ্গলবার পৃথিবীর আলো দেখেন উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকরা। ওইদিন সন্ধ্যায় একে একে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। প্রথমেই ৫ জনকে বাইরে আনা হয়। তারপর ধাপে ধাপে বাকি শ্রমিকদেরও বের করে আনার প্রক্রিয়া চলে। ১৭ দিন দিন রাত এক করে চেষ্টা চালানো পর ম্যানুয়াল ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে মঙ্গলবার সন্ধেয় সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে যায় উদ্ধারকারী দল। এরপরই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শুরু হয় তাঁদের বের করে আনার প্রক্রিয়া।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর