Home » বর্ধমানে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে FIR দায়ের মৃতের পরিবারের

বর্ধমানে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে FIR দায়ের মৃতের পরিবারের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর: বর্ধমানে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করলেন মৃত মাফিজা খাতুনের পরিবার। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেন তিনি। মেমারির বাসিন্দা আবদুল মাফিদ শেখের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান জিআরপি। অন্যদিকে, বর্ধমান স্টেশনে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পরার ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের উদ্দেশ্যে ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করেছে রেল। মাফিজা খাতুনের মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণের দাবি তুলে সরব হয় পরিবার। তবে, রেলের তরফে তাঁদের সঙ্গে  যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি, রেলের তরফে ক্ষতিপূরণের জন্য নথিপত্র লাগবে বলেই জানানো হয়েছে। তারপরই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সেইমতো মাফিজার দেহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরও ক্ষতিপূরণের টাকা মেলেনি বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন  OPTICALILLUSION: জিনিয়াসরা শুধু পারবেন নীচের দেওয়া ছবি দুটির মধ্যে থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বের করতে

প্রসঙ্গত, বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ বর্ধমান স্টেশনের ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ে আহত হয়েছেন একাধিক। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে নেমেছে বর্ধমানের জিআরপি ও আরপিএফ এবং বর্ধমান থানার পুলিশ। গোটা ঘটনায় স্টেশন চত্বরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। অন্যদিকে, এই ঘটনার জেরে বর্ধমান স্টেশনের দুই এবং তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। বাকি প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে ধীর গতিতে চলছিল ট্রেন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান স্টেশনের ২ এবং ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের উপরে ১৫ হাজার ৮০০ গ্যালনের বিশাল জলের ট্যাঙ্কটি রাখা ছিল। আচমকাই সেটি ভেঙে পড়ে ঘটে যায় বিপত্তি।

প্ল্যাটফর্মে সেই সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের গায়ের উপরই গিয়ে ভেঙে পড়ে ট্যাঙ্কটি। প্ল্যাটফর্মে থাকা বাকি রেলের প্যাসেঞ্জাররা সেখানে ছুটে আসেন। ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে আসেন রেলপুলিশ ও দমকল কর্মীরা। স্টেশন চত্বরে তুমুল হৈ হট্টগোল শুরু হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে তারা উদ্ধার কাজে হাত লাগান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের। ধ্বংসস্তুপের ভিতরে বেশ কয়েকজন আটকে ছিল। আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যালে কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় যাত্রীরা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও এই ঘটনা বড় আকার নিয়েছে বলে দাবি করছেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূলের বিধায়ক খোকন দাস। তিনি বলেন, ‘তাপ্পি দিয়ে আর কতদিন চলবে? পুরোপুরি রেলের গাফিলতি। ভাঙা জিনিসের উপরেই তারা সুন্দর করে রং করে দেয়।’

About Post Author