Home » ফিরে দেখা ২০২৩: ভারতের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের যন্ত্রণা থেকে এশিয়াডে স্বপ্নের সফর, একনজরে দেখে নেওয়া যাক ক্রীড়া জগতের সেরা ২৩

ফিরে দেখা ২০২৩: ভারতের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের যন্ত্রণা থেকে এশিয়াডে স্বপ্নের সফর, একনজরে দেখে নেওয়া যাক ক্রীড়া জগতের সেরা ২৩

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা: খেলার দুনিয়ার নানান উত্থান পতনের সাক্ষী ২০২৩। একনজরে ফিরে দেখা যাক (Flashback) ক্রীড়া জগতের সেই বিশেষ ঘটনাগুলি…

হকি বিশ্বকাপ বেলজিয়ামের, ব্যর্থ ভারত

বছরের শুরুটা হয়েছিল পুরুষদের হকি বিশ্বকাপ দিয়ে। ১৬টি দেশ নিয়ে ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। ২০১৮ সালের পর ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায় ভারত। পুরুষের ত্রয়োদশ বিশ্বকাপের আসর বসে। ওড়িশার ভুবনেশ্বর ও রাউরকেল্লায়। ঘরের মাটিতে ৪৭ বছরের খরা কাটিয়ে খেতাব জেতার সুযোগ ছিল ভারতীয় দলের কাছে। তবে এবারও বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গী হয়ে রইল ব্যর্থতা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে এগিয়ে থেকেও হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে ভারত। অন্যদিকে ফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়ামকে হারিয়ে ট্রফি পুনরুদ্ধার করে জার্মানি। ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের পর খেলার ফল ছিল ৩-৩। তারপর টাইব্রেকারে খেলা গড়ালে বাজিমাত করে জার্মানি। ৫-৪ গোলে তারা হারিয়ে দেয় বেলজিয়ামকে। এই নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য পুরুষদের হকিতে বিশ্বসেরা হল জার্মানরা।

অস্ট্রেলিয়ান কোর্টের রাজা জোকার ও রানী সাবালেঙ্কা

গত বছর করোনার টিকা না নেওয়ার জন্য তাঁকে টুর্নামেন্টে খেলতে দেওয়া হয়নি। চূড়ান্ত অপমান করে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই অপমানের মুধুর প্রতিশোধ নিলেন নোভাক জোকোভিচ। ২০২৩ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষদের সিঙ্গলস খেতাব জিতলেন সার্বিয়ার টেনিস তারকা। ফাইনালে ৬-৩,৭-৬,৭-৬ ব্যবধানে হারালেন সিসিপাসকে। এই জয়ের ফলে ক্যারিয়ারের দশম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন নিজের নামে করলেন জোকার। এতগুলি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিততে পারেননি আর কোনও টেনিস তারকা। পাশাপাশি ২২ টি গ্র্যান্ডস্লাম জিতে ছুঁলেন রাফায়েল নাদালকে। অন্যদিকে মহিলাদের সিঙ্গলসের খেতাব জেতেন আরিয়ানা সাবালেঙ্কা। ফাইনালে হারালেন এলেনা রাবাকিনাকে। খেলার ফল রুশ টেনিস তারকার পক্ষে ৪-৬, ৬-৩, ৬-৪।

মহিলাদের টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়া

বছরের শুরুতে আয়োজিত হয় আইসিসি মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নেয় মোট দশটি দল। প্রতিযোগিতায় আশা জাগিয়ে শুরু করেও শেষ রক্ষা হয়নি ভারতীয় মহিলা দলের। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হেরে বিদায় নিতে হয় হরমনপ্রীতদের। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি। প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশলি গার্ডনার। সর্বাধিক উইকেট নেন ইংল্যান্ডের সোফি একলস্টোন।

আরও পড়ুন: ফিরে দেখা : ২০২৩ সালের অন্যতম প্রধান ২৩ টি আন্তর্জাতিক ঘটনা

আইএসএল সেরা মোহনবাগান

২০২৩ ফুটবল মরসুমটা সবুজ মেরুনের। কারণ এই মরসুমে প্রথমবার আইএসএল জয়ের স্বাদ পেয়েছে মোহনবাগান। ফাইনালে বেঙ্গালুরুকে টাইব্রেকারে হারিয়ে দেয় কলকাতার অন্যতম প্রধান ক্লাব। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন দিমিত্রি পেত্রাতোস। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেই বড় ঘোষণা করেন দলের অন্যতম কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। সমর্থকদের দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে মোহনবাগানের নামের শুরু থেকে সরে যায় ‘এটিকে’। দলের নতুন নাম হয় ‘মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস’।

মহিলা ক্রিকেটের নবযুগের সূচনা

মহিলা ক্রিকেটের জন্য বছরটা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এবছর থেকে পথ চলা শুরু করে মেয়েদের আইপিএল বা উইমেন প্রিমিয়ার লিগ। এই লিগে অংশগ্রহণ করেছিল মোট পাঁচটি দল। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিদেশী মহিলা ক্রিকেটাররাও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আর উদ্বোধনী মরসুমেই বাজিমাত করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মহিলা দল। প্রথম সংস্করণে চ্যাম্পিয়ন হয় হরমনপ্রীত কউর নেতৃত্বাধীন মুম্বই। মুম্বইয়ের ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফাইনালে তারা ৭ উইকেটে হারিয়ে দেয় দিল্লি ক্যাপিটালসকে। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট। দুর্দান্ত ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্সে ক্রিকেট ভক্তদের মন কাড়তে সফল মহিলা ক্রিকেটাররা।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের খেতাব চেন্নাইয়ের

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ফের হলুদ ঝড়ের বছর। পঞ্চমবারের জন্য আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে ৫ উইকেটে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে দিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি বাহিনী। প্রথমে ব্যাট করে ২১৪ রান তোলে গতবারের চ্যাম্পিয়ন গুজরাট। এরপর বৃষ্টির জন্য খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১৫ ওভারে ১৭১ রান লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় চেন্নাইয়ের সামনে। শেষ বলে চার হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রবীন্দ্র জাডেজা। প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন গুজরাট টাইটানসের শুভমন গিল। ফাইনাল জেতার পর ক্রিকেটকে আলবিদা জানান চেন্নাই সুপার কিংসের অম্বাতি রায়ডু।

ইউরোপীয় ফুটবলে রাজ ম্যানচেস্টার সিটির

ইউরোপীয় ফুটবলে ইতিহাস রচনা করল ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। একটি ফুটবল মরসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেতাব ঘরে তুলেছে পেপ গুয়ার্দিওলার ছেলেরা। গত দশ বছরে সাতবার ইংল্যান্ড সেরা হলেও ইউরোপের খেতাব জেতা হয়নি ম্যানচেস্টারের ক্লাবটির। এই প্রতিযোগিতায় বরাবরই মুখ থুবড়ে পড়েছে দলটি। শুনতে হয়েছে হাজারো বিদ্রুপ। অবশেষে তুরস্কে আয়োজিত ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেই গেরো কাটিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের পর ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে ত্রিমুকুট জয়ের নজির গড়েছে সিটিজেনরা।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যর্থতাই সঙ্গী ভারতের

পরপর দুবার স্বপ্নভঙ্গ। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে হার ভরতের। লন্ডনের ওভালে আয়োজিত ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০৯ রানে হারতে হয় রোহিতেদের। টসে জিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ব্যাট করতে পাঠান ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। প্রথমে ব্যাট করে ৪৬৯ রান তোলে অজিরা। জবাবে ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৯৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৭০ রান করে ডিক্লেয়ার করে অস্ট্রেলিয়া। ভারতের সামনে চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্য ছিল ৪৪৪। কিন্তু ২৩৪ রানেই শেষ হয়ে যায় ভারতের ইনিংস। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন ট্রাভিস হেড।

উইম্বলডনে আলকা-রাজ, ভন্দ্রোসোভা রানী

তারুণ্যের উত্থানের সাক্ষী ঐতিহ্যশালী উইম্বলডন। পুরুষদের উইম্বলডন ফাইনালে সবাইকে চমকে দেন বিশ্বের একনম্বর কার্লোস আলকারাজ। স্পেনের এই তরুণ টেনিস তারকা ফাইনালে হারিয়ে দেন টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জকোভিচকে। স্প্যানিশ তারকার পক্ষে ৫ সেটের ম্যারাথন লড়াইয়ের ফল ১-৬, ৭-৬(৬), ৬-১, ৩-৬, ৬-৪। তৃতীয় কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে পুরুষদের উইম্বলডনে একক শিরোপা জেতার নজিরও গড়েন ২০ বছরের আলকারাজ। অন্যদিকে, মহিলাদের বিভাগ পায় উইম্বলডনের নতুন রানীকে। খেতাব জেতেন মার্কেতা ভন্দ্রোসোভা। ফাইনালে তিনি হারান ওনস জাবেরকে। ৬-৪, ৬-৩ স্ট্রেট সেটে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেন ভন্দ্রোসোভা।

ইউরোপীয় ফুটবলে মেসি-রোনাল্ডো-নেইমার যুগের অবসান

গত দুই দশক ইউরোপীয় ফুটবলকে শাসন করেছেন দুই মহারথী। একজন পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। অপরজন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে প্রায় দুই দশক পর এই বছর ইউরোপীয় ফুটবলে মেসি-রোনাল্ডো যুগের অবসান হয়েছে। বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে নাম লেখান সিআরসেভেন। আর ফুটবল মরসুমের শেষে আমেরিকার ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে নতুন ফুটবল জীবন শুরু করেন লিওনেল মেসি। মেসি রোনাল্ডোর পথ অনুসরণ করে চলতি বছরেই ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে আমেরিকা ও সৌদি লিগে নাম লেখান সের্জিও বুস্কেটস, জর্ডি আলবা, করিম বেঞ্জেমা, নেইমার জুনিয়রের মতো মহাতারকারা।

দাবা বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রজ্ঞানন্দ

বছরটা ভারতীয় দাবাড়ুদের কাছেও ছিল উল্লেখযোগ্য। এবছর ফাইড দাবা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠেন ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টার রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। বিশ্বনাথন আনন্দের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। সেমিফাইনালে তিনি হারান বিশ্বে তিন নম্বর দাবাড়ু ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানাকে। টাইব্রেকারে মার্কিন দাবাড়ুকে হারিয়ে দেন প্রজ্ঞা। তবে ফাইনালে ম্যাগনাস কার্লসেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ১৮ বছরের ভারতীয় দাবাড়ুর। টানটান লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারের দ্বিতীয় রাউন্ডে হার মানতে হয় প্রজ্ঞাকে। ম্যাচ হারলেও দেশবাসীর মন জয় করতে সফল হন তামিলনাড়ুর খুদে এই গ্র্যান্ডমাস্টার।

প্রয়াত বড়ে মিঞা

ভারতীয় ফুটবলে নক্ষত্র পতনের বছর। সারা দেশ যখন ৭৭ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ব্যস্ত, ভারতীয় ফুটবল মহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। চলে যান ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি মহম্মদ হাবিব। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। সাতের দশকে মাত্র ১৭ বছর বয়সে হায়দরাবাদ থেকে কলকাতায় আসেন হাবিব। তারপর প্রায় দুই দশক চুটিয়ে খেলেছেন কলকাতা ময়দানের তিন প্রধানে। তাঁর বাড়ানো পাস থেকে গোল করেছেন সুভাষ ভৌমিক, শ্যাম থাপারা। তিন ক্লাবের হয়ে জিতেছেন অসংখ্য ট্রফি। ব্যক্তিগত ভাবে করেছেন বহু স্মরণীয় গোল। ১৯৮০ সালে পেয়েছিলেন অর্জুন পুরস্কার। খেলা ছাড়ার পরও দীর্ঘদিন কোচিংও করিয়েছেন। দেশের পাশাপাশি তাঁর ফুটবল নিয়ে চর্চা হয়েছে বিদেশেও। গত দু’বছর ধরে ভুগছিলেন ডিমেনশিয়া ও পারকিনসন সিন্ড্রোমে। এবার জীবন যুদ্ধে হেরে যান হাবিব। কলকাতা ময়দান হারায় তার ‘বড়ে-মিঞা’কে।

মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপে স্পেনের ‘দিদিগিরি’ ও বিতর্ক

গত বছর ছিল পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের বছর। আর এই বছরটা ছিল মহিলা বিশ্বকাপের। কারণ এবছর যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বসে ফিফা মহিলা বিশ্বকাপের নবম সংস্করণের আসর। মোট ৩২ টি দেশকে নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শেষ হাসি হাসে স্পেন। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন অ্যালেক্সা পুতেয়ারা। স্পেনের হয়ে ফাইনালে একমাত্র গোলটি করেন ওলগা কারমোনা। এটিই স্পেনের মহিলা দলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়। গোটা টুর্নামেন্টে দুরন্ত খেলে সোনার বল জেতেন স্পেনের আইতানা বোনমাতি। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা জাপানের হিনাতা মিয়াজাওয়া। বিশ্বকাপে মোট ৫ টি গোল করেন তিনি। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পান ইংল্যান্ডের মেরি ইয়ার্পস। তবে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে তাল কাটে। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে একে একে যখন পুরস্কার নিতে উঠছিলেন স্পেনের ফুটবলাররা, তখন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস জোর করে চুম্বন করেন ফুটবলার জেনি হারমোসাকে। এই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের জল গড়ায় অনেকদূর।

একদিনের ক্রিকেটে এশিয়া সেরা ভারত

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পুরুষদের এশিয়ান গেমসে সেরার খেতাব জেতে ভারত। কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে দুরমুশ করে জয় পায় ভারতের। ফাইনালে মাত্র ৫০ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। বল হাতে দাপট দেখান পেসার মহম্মদ সিরাজ। একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন মহম্মদ সিরাজ। সিরিজ সেরার খেতাব পান কুলদীপ যাদব।

প্রয়াত কিংবদন্তি ক্রিকেটার বিষেণ সিং বেদী

ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য বছরটা খুব একটা সুখের নয়। এই বছরের ২৩ অক্টোবর প্রয়াত হন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার বিষেণ সিং বেদি। ৭৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রায় একযুগের বেশি সময় ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে রাজ করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের সোনালী অধ্যায়ের চার স্পিনাররের মধ্যে তিনিও ছিলেন অন্যতম। দেশের হয়ে ৬৭ টি টেস্ট খেলে নিয়েছিলেন ২৬৬ উইকেট। একদিনের ক্রিকেটে ১০ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের একাধিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।

অষ্টম ব্যালন ডি’অরের মালিক মেসি, প্রথম ব্যালন ডি’অর আইতানার

সপ্তমবার ব্যালন ডি’অর জিতে এর আগেই ইতিহাস তৈরি করেছিলেন লিওনেল মেসি। এবার নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙে নয়া ইতিহাস রচনা করেন তিনি। অষ্টমবারের জন্য ব্যালন জেতেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী ফুটবল তারকা। মেসির সঙ্গে এবার ব্যালন জেতার দৌড়ে ছিলেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড। গত মরসুমে ম্যানচেস্টার সিটির ত্রিমুকুট জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন নরওয়ের গোলমেশিন। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করার সুবাদে শেষ হাসি হাসেন মেসিই। অন্যদিকে, মহিলাদের বিভাগে সেরা ফুটবলার হয়ে ব্যালন ডি’অর জেতেন আইতানা বোনমাতি। স্পেনের হয়ে মেয়েদের বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি গোটা মরসুমে বার্সেলোনার হয়ে দুরন্ত ফুটবল খেলেন তিনি। তারই পুরস্কার হিসেবে প্রথমবারের মত ব্যালন ডি’অর জিতে নেন বোনমাতি।

এশিয়ান গেমসে স্বপ্নের সফর ভারতের

এশিয়ান গেমসে স্বপ্নের সফর ভারতের। ২০২৩ সালে প্রতিযোগিতার আসর বসে চিনের হাংজুতে। সেখানে একের পর এক ক্রীড়া বিভাগে পদক জেতেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা। মোট ১০৭টি পদক আসে ভারতের ঝুলিতে। এর মধ্যে ২৮টি স্বর্ণ পদক, ৩৮টি রৌপ্য পদক এবং ৪১টি ব্রোঞ্জ পদক। এটাই এখনও পর্যন্ত প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ভারতের সেরা ফলাফল। এর আগে, ২০১৮ সালে জাকার্তা গেমসে ভারতীয় দল ৭০টি পদক জিতেছিল। এবার গেমস শেষ হওয়ার চারদিন আগেই সেই পদক সংখ্যা ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করেন নীরজ চোপড়ারা। ওই তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে চিন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে শেষ করে যথাক্রমে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

প্যারা এশিয়াডে রেকর্ড ভারতের

এশিয়াডের সাফল্যের পর প্যারা এশিয়াডেও দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন দেশের ক্রীড়াবিদরা। এবছর চিনের হাংজু প্রদেশে প্যারা এশিয়াডেরও আসর বসে। যেখানে রেকর্ড ১১১ টি আসন জিতে নেয় ভারতের বিশেষ ভাবে সক্ষম ক্রীড়াবিদরা। ২৯টি সোনা, ৩১টি রুপো এবং ৫১টি ব্রোঞ্জ জেতেন তারা। পদক তালিকার পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করে ভারত। তালিকায় প্রথম স্থানে ছিল চিন। মোট ৫২১ টি পদক যায় আয়োজক দেশের ঝুলিতে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ইরান। ১৩১ টি পদক পায় তারা। তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে শেষ করে জাপান ও কোরিয়া। তবে ভারতীয় দলের সাফল্যে গর্বিত গোটা দেশ।

ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের মেগা আসর

ভারতবাসীর কাছে উন্মাদনার আর এক নাম ক্রিকেট। ২০২৩ সালে সেই ক্রিকেটের সব থেকে বড় আসর আইসিসির একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায় ভারত। এই নিয়ে চতুর্থবারের জন্য এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব পায় ভারত। এর আগে ১৯৮৭, ১৯৯৬, ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের মূল আয়োজকও ছিল ভারত। এবারের প্রতিযোগিতায় ভারত-সহ মোট ১০ টি দেশ অংশগ্রহণ করে। প্রায় দেড় মাস ধরে চলে খেতাব দখলের লড়াই। ৫ অক্টোবর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে যেই টুর্নামেন্ট শুরু হয়। এবং ১৯ নভেম্বর ওই স্টেডিয়ামেই ফাইনাল দিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।

বিরাট বিশ্বকাপের সাক্ষী দেশবাসী

বিশ্বকাপে স্বমহিমায় দেখা যায় কিং কোহলিকে। ওয়াংখেড়েতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে পূর্ণ করেন একদিনের ক্রিকেটে অর্ধশততম শতরান। ক্রিকেটের ভগবান সচিন তেন্ডুলকরের সামনেই ভাঙেন তার ৪৯ টি শতরানের রেকর্ড। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে লেখা হয় নয়া ইতিহাস। ভিআইপি বক্সে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে বিরাটকে অভিনন্দন জানান মাস্টার ব্লাস্টার্স। গোটা বিশ্বকাপে দারুণ খেলে প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টও নির্বাচিত হন বিরাট কোহলি।

সব ভালো যার, শেষ ভালোও কি তার?

কথায় বলে সব ভালো যার, শেষ ভালো তার। তবে এই কথার প্রতি সুবিচার করতে পারেনি ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় রোহিত এন্ড কোম্পানি। ঘরের মাটিতে আবারও স্বপ্নভঙ্গ হয় ভারতের। যদিও গোটা প্রতিযোগিতায় ফাইনালের আগে একটিও ম্যাচ হারেননি রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা। তবে ফাইনালে জয় হাশিল হয় নি তাঁদের। ফাইনালে দাপুটে ১৩৭ রান করে ভারতের ডেরা থেকে বিশ্বকাপ প্রায় ছিনিয়ে নিয়ে যান অজি ওপেনার ট্রাভিস হেড। একই সঙ্গে নিশ্চিত করেন অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ রান স্কোরার হন বিরাট কোহলি। সর্বোচ্চ উইকেট শিকরী হন মহম্মদ শামি।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে ‘অধিনায়ক রোহিত’ যুগের অবসান

দীর্ঘ দিন দায়িত্ব সামলানোর পর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক পদ থেকে সরানো হয় রোহিত শর্মাকে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে এই খবরে সিলমোহর দেওয়া হয়। ২০১৩ সাল থেকে মুম্বইয়ের ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্বে ছিলেন রোহিত। তাঁর নেতৃত্বে মোট পাঁচবার আইপিএল ট্রফি জিতেছে মুম্বই। তবে আগামী আইপিএলে আর মুম্বইয়ের দলকে নেতৃত্ব দেবেন না টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটের ভারত অধিনায়ক। তাঁর বদলে আগামী বছর থেকে মুম্বইয়ের দলকে নেতৃত্ব দেবেন গুজরাট টাইটান্স থেকে এই মরসুমে যোগ দেওয়া হার্দিক পান্ডিয়া।

ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে পথে কুস্তিবিদরা

বিদেশের মাটিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন ওঁরা। কেউ অলিম্পিকসে, কেউ এশিয়ান গেমসে, কেউ আবার কমনওয়েল্থ গেমসে পদক জিতেছেন। ভারতের সেই মহিলা কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে খোদ ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে। উত্তর প্রদেশের দাপুটে সাংসদ ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে এক নাবালিকা-সহ ছ’জন মহিলা কুস্তিগির যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন দিল্লি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। বছরের শুরুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন বিনেশ ফোগট, সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়াদের মতো দেশের কৃতি কুস্তিগিররা। কমিটি গঠন করে তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয় কেন্দ্রিয় সরকার। সরকারের আশ্বাস পেয়ে ওই মাসেই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন বিনেশ, সাক্ষীরা। এপ্রিলের শুরুতে সেই কমিটি ঘটনার রিপোর্ট পেশ করে। কিন্তু সরকার সেই রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। ফের এপ্রিল মাস থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন কুস্তিবিদরা। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে আড়াল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তারা। ব্রিজভূষণকে গ্রেফতারির দাবিতে সরব হন আন্দোলনকারীরা। একাধিকবার ঘটনায় হস্তক্ষেপ করলেও, সুরাহা করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। বরং কুস্তিবিদদের বিক্ষোভ ভাঙতে বারবার অতি-সক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। এপ্রিল মাসে অভিযুক্ত সাংসদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বিক্ষোভকারীরা। শেষ পর্যন্ত ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে বাধ্য হয় পুলিশ। মামলা গড়ায় আদালতে। গদিচ্যুত হন ব্রিজ ভূষণ। ব্রিজ ভূষণের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ-সহ চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। শালীনতা ভঙ্গ, যৌন হয়রানি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদশর্ন-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে আদালতে সেই মামলা চলছে। যদিও বর্তমানে জামিনে মুক্ত উত্তরপ্রদেশের বাহুবলী এই নেতা।

About Post Author