Home » বছরের শুরুতেই ফের রক্তাক্ত মণিপুর, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত ৪

বছরের শুরুতেই ফের রক্তাক্ত মণিপুর, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত ৪

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ জানুয়ারি: বছরের শুরুতেই ফের রক্তাক্ত মণিপুর। সোমবার ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল রাজ্য জুড়ে। থৌবাল জেলার লিলং এলাকায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের গুলিতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে ইম্ফল উপত্যকায় অবস্থিত রাজ্যের পাঁচ জেলায় নতুন করে কার্ফু জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। সূত্রের খবর, সোমবার রাত ৮টা নাগাদ আচমকাই হামলা চালায় ওই অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। এই হামলার পর ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান মণিপুর পুলিশ ও অসম পুলিশের কর্তারা। নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের কার্ফু মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন   পরপর জোরাল ভূমিকম্প জাপানে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

দুই দিন আগেই মণিপুরের সীমান্ত শহর মোরেতে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা পুলিশের এক কনভয়ে হামলা চালিয়েছিল। ওই রাতেই পুলিশ কমান্ডোদের একটি ঘাঁটিতেও আরপিজি নিয়ে হামলা চালান হয়। ওই ঘটনায় ৪ পুলিশ কমান্ডো আহত হয়েছিলেন। তবে, তারপরও ৩১ জানুয়ারি রাজ্যের অধিকাংশ এলাকাতেই কারফিউ শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু, একদিন যেতে না যেতেই ফের ফিরল কড়াকড়ি। এদিকে, এদিনের ঘটনার পরই এক ভিডিও বার্তায় এই নতুন করে হিংসার নিন্দা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। লিলংয়ের বাসিন্দাদের এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। কিছুদিন আগেই উত্তপ্ত মণিপুরে ২ মহিলাকে নিগ্রহের ঘটনায় তোলপাড় হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। গত ৪ মে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। লজ্জাজনক ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। যদিও এই ঘটনার পরই ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়ো দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত হুইরেম হেরোদাস মেইতি সহ সাতজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

 

এমনকী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো হচ্ছে। তাদের ঘিরে ভিড় করে রয়েছে বেশ কিছু পুরুষ। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এমনকী এই ঘটনার পরেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। যদিও এই ঘটনার পরই সংরক্ষণ ইস্যুতে কুকিদের সঙ্গে মেইতেইদের সংঘাত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে ১২টি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। যদিও মণিপুরের একটি আদিবাসী সংগঠনের দাবি, মহিলাদের বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনায় ধরপাকড় শুরু হলেও দু’মাস আগে মূল ঘটনাটি ঘটে। ওই দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর পাশাপাশি তাঁদের একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলেও দাবি ওই আদিবাসী সংগঠনের।

About Post Author