সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারিঃ রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নতুন বছরের শুরু থেকেই রেশন দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। এবার রেশন দুর্নীতির তদন্তে বাকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পেশ করা চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি করল ইডি। পেশ করা চার্জশিটে ইডি জানিয়েছে, রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুর রহমানের এনপিজি রাইস মিল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ ২২৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। আর এই নগদ লেনলেনের বিষয়ে জানতেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও। তবে, এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। জানা গিয়েছে, ইডির পেশ করা ওই চার্জশিটে বাকিবুরের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট জয়শঙ্কর গুপ্তের নাম উল্লেখ রয়েছে। যদিও এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। ইতিমধ্যেই জেরায় বাকিবুর দাবি করেছেন, চাল-আটা বিক্রি করেই তাঁর রাইস মিলের অ্যাকাউন্টে ২২৮ কোটি টাকা জমা পড়েছে। এদিকে, চার্জশিটের ৪৪ নং পাতায় ইডি জানিয়েছে, বাকিবুরের সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের রেকর্ড খতিয়ে দেখতে গিয়েই এই বিপুল পরিমাণ নগদ জমা পড়েছে বলে জানতে পারেন তাঁরা।
এর আগেও রেশন দুর্নীতি মামলায় ১৬২ পাতার চার্জশিট পেশ করেছিল ইডি, যাতে জ্যোতিপ্রিয়র বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ রয়েছে। ইডির পেশ করা চার্জশিট থেকে জানা গিয়েছে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্ত্রী ও কন্যার নামে ৫৮টি টার্ম ডিপোজিট ছিল ব্যাঙ্কে। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ১ হাজার ৪৭৮ টাকা জমা ছিল। ইডি সূত্রে খবর, এই গোটা টাকাই বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই বালুর স্ত্রী ও মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা দু’কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৩০ কোটি টাকা গিয়েছে বাকিবুরের কাছে। শুধু তাই নয়, ইডির চার্জশিটে বাকিবুরকে মূল চক্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেইসঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে প্রায় তিরিশ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইডির দাবি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রভাবেই বাকিবুর দুর্নীতির পুরো টাকা ঘুরপথে পাঠাতেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীকে। মঙ্গলবার রেশনবন্টন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ১২ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট পেশ করে ইডি। তাতে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং রেশন ডিলার বাকিবুর রহমান ছাড়াও ১০টি সংস্থার নাম রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বাকিবুর এবং বাকি পাঁচটি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামে নথিভুক্ত বলে খবর। অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ইডির জানতে পেরেছে রাজ্যের একাধিক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির চাবিকাঠি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের হাতে। সমিতিগুলির আইডি ও পাসওয়ার্ড জানতেন বাকিবুর! এমনকী সেগুলির নিয়ন্ত্রণও ছিল এই ব্যবসায়ীর হাতে। সেই সুবিধা নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভুয়ো কৃষকদের নাম ঢোকানো হত সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির তালিকায়। এই পদ্ধতিতে রেশন বণ্টনের নামে কোটি কোটি টাকা তছরূপ করেছেন বাকিবুর ও তাঁর সঙ্গীরা, এমনই অভিযোগ ইডির।


More Stories
অসহায়,ভবঘুরে, মানসিক ভারসাম্যহীনদের ভালোবাসতে শেখাচ্ছে বীরপাড়ার পুলিশ
মাটির বুকে স্বর্গ, সাজুর ‘হেভেন’ বাঁচিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি পুলিশ প্রশাসনের
বিচ্যুতি থাকবেই, ফুলপ্রুফ সিস্টেম বলে কিছু হয়না : শমীক ভট্টাচার্য