সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ জানুয়ারিঃ ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ৮ ডিসেম্বর শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন এথিক্স কমিটির রিপোর্টে মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ করা হয়েছিল। এরপরই সাংসদের বাংলো খালি করার জন্য মহুয়াকে নির্দেশ পাঠাতে বলেছিল সংসদের আবাসন কমিটি। সেইমত কেন্দ্রীয় আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন মহুয়া। এবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয় অনন্ত দেহদ্রাইকে তলব করল সিবিআই।
আরও পড়ুন রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত শঙ্করের ভাই মলয় আঢ্যকে ফের তলব ইডির
জানা গিয়েছে, শিল্পপতি দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং দামী উপহার সামগ্রী ঘুষ হিসেবে নিয়ে, সংসদে গৌতম আদানি এবং মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করা অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি সংসদ নিশিকান্ত দাস। জয় অনন্ত দেহদ্রাই তাঁকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠির ভিত্তিতেই এই অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি সাংসদ। সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী তাঁর প্রাক্তন বন্ধু বলে জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সিবিআই তাঁকে ২৫ জানুয়ারি তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য ডেকেছে। প্রসঙ্গত, শিল্পপতি দর্শন হিরানন্দনীর থেকে উপহার এবং অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের এই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে সংসদের এথিক্স কমিটি। চলতি সপ্তাহেই নিশিকান্ত এক্স হ্যান্ডলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর চিঠি পোস্ট করে মহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন। তার জবাবে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন মহুয়া।
সেই পোস্টে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ লিখেছেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর পাঠানো চিঠি জাল ডিগ্রিধারীর কাছে আছে শুনে খুশি হয়েছেন তিনি। অপেক্ষা করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক কবে বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের ঘরে ফর্জি দুবের অবৈধ অনুপ্রবেশের তদন্ত করবে।’ যদিও নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ ছিল, মহুয়া যখন ভারতে, তখন দুবাই থেকে তাঁর সংসদীয় আইডিতে লগইন করা হয়েছিল হিরানন্দনির তরফে। এতে বিঘ্নিত হয়েছে গোটা দেশের নিরাপত্তা। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস সেন্টার-কে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে বলে দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে ২ কোটি টাকা ও বিভিন্ন দামি উপহার নিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এর বদলে তিনি ওই ব্যবসায়ীর সাজিয়ে দেওয়া প্রশ্নই সংসদে করতেন। লোকসভায় আদানি ইস্যু নিয়ে করা ৬৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৫০টিরও বেশি প্রশ্ন ওই ব্যবসায়ীরই সাজিয়ে দেওয়া ছিল। এই প্রশ্নগুলি করার জন্য তৃণমূল সাংসদ তাঁর সংসদীয় ইমেইল আইডির লগ ইন ও পাসওয়ার্ডও দুবাইয়ের ব্যবসায়ীকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।


More Stories
আবার বাড়ল পেট্রোল, ডিজেলের দাম
সুপ্রিম রায় : বিবাহিতা মহিলাদের বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ টিকবে না
আমাদের চেয়ে ভালো গলা কাটতে কেউ জানেনা, বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি নাগাল্যান্ডের মন্ত্রীর