Home » ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল

ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ ফেব্রুয়ারিঃ ঝালদা পুরসভার পুরপ্রধান নির্বাচন নিয়ে অবশেষে কাটল জট। হাইকোর্টের নির্দেশে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভায় পুরপ্রধান নির্বাচন হয়। শনিবার সেই আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে নতুন চেয়ারম্যান হলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল। মঙ্গলবার ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুরেশ আগরওয়াল। ঝালদার মহকুমাশাসক রাখি বিশ্বাস পুরপ্রধানের কক্ষে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এদিন দায়িত্বভার নিয়ে ঝালদার মূল সমস্যাগুলির সমাধানের কথা বলেন তিনি। গত মাসের ১৭ জানুয়ারি দলের পাঁচ ও কংগ্রেসের দুই কাউন্সিলর মিলে ঝালদা পুরসভার তৃণমূল পুরপ্রধান শিলা চট্টোপাধ্যায়কে অপসারিত করেন। কংগ্রেস ও শাসক দল তৃণমূলের অলিখিত জোটের সাত-শূন্য ভোটে অপসারিত হন তিনি। যা নিয়ে ঝালদার রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে।

আরও পড়ুন  রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের জন্য দিল্লি সফর বাতিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী

অভিযোগ, পুরপ্রধান অপসারিত হওয়ার পরেও চেয়ার আঁকড়ে বসেছিলেন শিলা চট্টোপাধ্যায়। যদিও তাঁর যুক্তি, ওই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তিনি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ২৭ জানুয়ারি তলবি সভার বৈঠক ডেকেছিলেন। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তির আমল না দিয়ে তলবি সভা হয়। উল্লেখ্য, ঝালদা পুরসভা নিয়ে জট দীর্ঘদিনের। গত বছর ১৯ জানুয়ারি দলবিরোধী কাজের অভিযোগে শীলা চট্টোপাধ্যায়ের কাউন্সিলর পদ খারিজ করেন ঝালদার মহকুমা শাসক ঋতম ঝাঁ। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশে ওই পুরসভায় চেয়ারপার্সন পদে বহাল থাকেন শীলা চট্টোপাধ্যায়। এরপর সেই নেত্রীর অপসারণ চেয়ে ফের মামলা হয় আদালতে। একটি নয়, এক জোড়া মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একটি মামলা করেছেন মৃত কাউন্সিলরের স্ত্রী তথা বর্তমান কংগ্রেস কাউন্সিলর পূর্ণিমা কান্দু।

জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভার কাউন্সিলক তপন কান্দুর মৃত্যুর পর থেকেই বারবার শিরোনামে এসেছে ঝালদা পুরসভা। এই পুরসভায় মোট ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে। গত পুরভোটে কংগ্রেস ও তৃণমূল প্রত্যেকে ৫টি করে আসন পেয়েছিল। বাকি ২টি আসনে জিতেছিলেন নির্দল প্রার্থী শীলা চট্টোপাধ্যায় ও সোমনাথ কর্মকার। তাঁদের সমর্থন নিয়ে প্রথমে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল। পরে একে একে ওই দুজনই সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর নির্দল কাউন্সিলর সোমনাথ যোগ দেন কংগ্রেসে, আনাস্থাও আনে কংগ্রেস। যেহেতু সেই সময় শীলা চট্টোপাধ্যায় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠেছিলেন, তাই কংগ্রেস তাঁকে চেয়ারপার্সন করার কথা ঘোষণা করে। শীলা চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে মামলা হয়েছে আগেও। তাঁকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন ঝালদার মহকুমা শাসক। সেই ইস্যুতে মামলা হয় ডিভিশন বেঞ্চ অপসারণের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

About Post Author