সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ ফেব্রুয়ারিঃ রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় ফের ইডির তলব এড়ালেন সন্দেশখালিকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড শেখ শাহজাহান। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে শাহজাহানের হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি হাজিরা দেননি। এবার শাহজাহানের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করবে ইডি? এখন সেটাই দেখার বিষয়। আইনজীবীদের মতে, যেহেতু শাহজাহানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছে, তাই তিনি হাজিরা দিলে ইডির হাতে গ্রেফতার হতে পারেন। ইডির সূত্রে জানা গিয়েছে,শাহজাহান যদি একেবারেই তলবে সাড়া না দেন, তবে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই ইডির তরফে শাহজাহান ও তাঁর পরিবারের লোকেদের সম্পত্তির খতিয়ান নেওয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তির একটি তালিকাও তৈরি করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
আরও পড়ুন মধ্যপ্রদেশের বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণকাণ্ডে গ্রেফতার মালিক- সহ ৩
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শাহজাহানের কোন ব্যাঙ্কের কোন ব্রাঞ্চে ক’টা অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তা জানতে সম্প্রতি মুম্বইয়ের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ইউনিটের নোডাল অফিসারকে চিঠি দিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। তৃণমূল নেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের গত ১০ বছরের তথ্য চেয়েছে ইডি। একইসঙ্গে তৃণমূল নেতা আয়কর রিটার্ন জমা দিতেন কিনা সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় গত একমাস ধরে খোঁজ নেই সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের। এর আগে অন্তরাল থেকেই আগাম জামিনের আর্জি নিয়ে একের পর এক আদালতে হাজির হন তৃণমূল নেতা শাহজাহানের আইনজীবী। শাহজাহান কোথায় আছেন, তা এখনও অজানা। তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করেছিল ইডি। পুলিশও এখনও পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করতে পারেনি। শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, ইডি দফতরে হাজির হলে গ্রেফতারির আশঙ্কা করছেন তিনি। সেক্ষেত্রে নাকি অন্য কোনও ভাবে ‘আত্মসমর্পণ’ করতে পারেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতির তদন্তে গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে এসে বেধড়ক মার খেয়েছিলেন ইডির কর্তারা। মাথা ফেটেছিল ইডির তিন অফিসারের। তড়িঘড়ি তাঁদের সেখান থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। কিন্ত যাঁকে ঘিরে এত কাণ্ড, সেই শেখ শাহজাহানের কোনও খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। কেননা ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা। গোটা বিষয়টির জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি।


More Stories
সিকিম থেকে ফিরল কফিনে বন্দি নতুন সংসারের স্বপ্ন
“বাপের নাম ঠিক থাকলে ডায়মন্ড হারবারে লড়বে ” : অভিষেককে চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর
বাড়ির লোক বললে বিজেপিতে যাব, মদন ইডির ডাক পেলেন