সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারিঃ সন্দেশখালি ইস্যুতে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত বসিরহাটে এসপি অফিসের সামনে চলেছে বিক্ষোভ। এসবের মাঝেই বুধবার সকালে সরস্বতী প্রতিমা নিয়ে সন্দেশখালির উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিজেপি আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, যেখানেই বাধা পাবেন সেখানেই বসে পড়বেন। এদিন সুকান্তরা সন্দেশখালি পৌঁছতেই তাঁদেরকে পথেই আটকালো পুলিশ। সন্দেশখালি যাওয়ার পথে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে টাকিতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সুকান্ত মজুমদার। পুলিশের গাড়ির বনেটে উঠে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তিনি। প্রবল ঝাঁকুনিতে গাড়ি থেকে পড়ে যান। সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।
আরও পড়ুন রাজীব দাস হত্যার ১৩ বছর
ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, সুকান্ত মজুমদারের অবস্থা স্থিতিশীল নয়, অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, টাকির কাছে যে হোটেলে সুকান্ত ছিলেন, এদিন সকাল থেকেই সেই এলাকা কার্যত ঘিরে ফেলে পুলিশ। কোনওরকম বিশৃঙ্খলা এড়াতে তৈরি রাখা হয় কমব্যাট ফোর্সকে। যদিও বিজেপি আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, যেখানেই বাধা পাবেন সেখানেই বসে পড়বেন। এদিকে, হোটেলের বাইরে যাতে সুকান্ত কোনওভাবেই বের হতে না পারেন সেই চেষ্টা করে পুলিশ। হোটেলের বাইরে বসিরহাট জেলা পুলিশের বড়বড় কর্তাদের কড়া নজর ছিল। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে হোটেলের মূল গেট দিয়ে প্রতিমা হাতে হোটেল থেকে বেরনোর চেষ্টা করেন ইন্দ্রনীল খাঁ-সহ বিজেপির নেতারা। সেখানেই তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে বাঁধে বচসা।
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সাফ জানানো হয় পুজো করা যাবে না। পুজো করতে হলে হোটেলের মধ্যেই করতে হবে। কেননা সন্দেশখালির প্রবেশপথের ১৯টি জায়গায় বুধবার সকাল থেকে নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। এসবের মাঝে কার্যত পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে হোটেলের অন্য গেট দিয়ে সরস্বতী প্রতিমা হাতে বের হন সুকান্ত মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ইছামতীর পাড়ে প্রতিমা রেখে শুরু হয় পুজো। যে জায়গায় পুজো চলছে সেখানেও মোতায়েন কড়া হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ইছামতীর তীর ঘিরে ফেলা হয়। এরপরই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। পুলিশের গাড়ির বনেটের উপর উঠে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। প্রবল ঝাঁকুনিতে মাটিতে পড়ে যান সুকান্ত। যদিও বিজেপির দাবি, পুলিশই ফেলে দেয় তাঁকে। এদিন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ জ্ঞান ছিল না সুকান্ত মজুমদারের। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় আনার পরিকল্পনা করে বিজেপি।


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের