Home » রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পান্ডা সান্থানের মৃত্যু

রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পান্ডা সান্থানের মৃত্যু

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ ফেব্রুয়ারি : মৃত্যু হল সান্থানের।২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশবলে রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় মুক্তি পায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া ও সাজাপ্রাপ্ত ছয় এলটিটিই জঙ্গি। এদের অন্যতম ছিল সান্থান। বুধবার সকালে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় সান্থানের। সান্থান ওরফে টি সুথেন্দিররাজা আদতে একজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক, কুড়ি বছরেরও বেশি সময় জেলে থাকার পরে মুক্তি পায়।তাকে তিরুচিরাপল্লি কেন্দ্রীয় কারাগারের কাছে বিশেষ ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। কে ছিল এই সান্থান? ফিরে তাকাতে হবে বেশ কয়েক দশক আগে।

১৯৯১ সালের মে মাসের ২১ তারিখ। লোকসভার ভোট এগিয়ে এসেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সব দল। কংগ্রেস ও জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে দেশ জুড়ে। তখন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ রাজীব গান্ধী। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ুতে একটি সমাবেশে যোগ দিতে গিয়েছেন। কেউ ভাবতে পারে নি শ্রীপেরামবুদুরে নির্বাচনী প্রচার সভাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ দিন। এক এলটিটিই (LTTE)  মহিলার আত্মঘাতী বোমা রাজীব গান্ধীর জীবনে টানে ইতি।

ধনু বা ধানু , যাকে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, সমাবেশ চলাকালীন রাজীব গান্ধীর কাছাকাছি গিয়েছিলেন এবং তার সালোয়ার কামিজের মধ্যে রাখা বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে তাঁর পা স্পর্শ করার জন্য চেষ্টার ছল করেন। বোমা বিস্ফোরণের প্রাবল্য ছিল ভয়ঙ্কর। ছিন্নভিন্ন হয়ে যান রাজীব গান্ধী। এছাড়াও বিস্ফোরণে আরও প্রায় ১৫ জন মারা যায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিল।এই হত্যাকাণ্ডকে তামিল বিদ্রোহীদের নিরস্ত্র করার জন্য ১৯৮৭ সালে শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় শান্তি রক্ষা বাহিনী পাঠানোর  পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিশোধমূলক জঙ্গি কার্য হিসাবে দেখা হয়েছিল।

আরও পড়ুন হেনরি কিসিঞ্জার : ইন্দিরার ভারতের শত্রু, মোদীর প্ৰিয় ব্যক্তিত্ব!

একে একে ৪১ জন অভিযুক্ত এই হত্যাকান্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়।রাজীব গান্ধী হত্যাকান্ডের মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় ৪১ জনের মধ্যে মোট ২৬ জনকে ১৯৯৮ সালে একটি টাডা আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।১৯৯৯ সালের মে মাসে, সুপ্রিম কোর্ট তাদের মধ্যে ১৯ জনকে মুক্তি দেয়, মুরুগান, সানথান, পেরারিভালান এবং নলিনীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে এবং পায়াস, রবিচন্দ্রন এবং জয়কুমারের মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবনে পরিবর্তন করে। ২০২০সালে সোনিয়া গান্ধীর একটি আপিল এবং তামিলনাড়ু সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতে নলিনীর মৃত্যুদণ্ড কমানো হয়েছিল।অন্য তিনটি মৃত্যুদণ্ডের সাজা ২০১৪ সালে পরিবর্তন করা হয়েছিল।

সান্থানের ভূমিকা কী ছিল? সিবিআই চার্জশিট অনুসারে, সান্থালকে এলটিটিই-এর গোয়েন্দা শাখার (ইন্টেলিজেন্স উইং ) সদস্য হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং যে এলটিটিই-র অগ্রগণ্য শিভারাসনের সাথে তামিলনাড়ুতে এসেছিল।

১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে , শিভারসন তাকে পরামর্শ মাদ্রাজ যা বর্তমানে চেন্নাইয়ে শিক্ষার্থী হতে বুদ্ধি দেয়।  সান্থানকে মাদ্রাজে (চেন্নাই) তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় । পরবর্তীকালে, সে ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজিতে ভর্তি হয়। সে এলটিটিইর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যস্থতাকারী  বা লিংকম্যান হয়ে ওঠে। রাজীব গান্ধী হত্যাকান্ডের  ষড়যন্ত্রে সে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে পড়ে। রাজীব গান্ধীর হত্যাকান্ডের জন্য বিভিন্ন ব্লুপ্রিন্টে সে ছিল অন্যতম কান্ডারি।

জেলে সান্থান নিজের জগতে নিজেই ডুবে থাকত বলে জেলসূত্রে জানা গিয়েছে। সান্থান কারও সাথে বিশেষ কথা বলত না। আধ্যাত্মিক প্রকৃতির মানুষ  ছিল সে, যে নিজের পুজো-অর্চনা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। জেলের মন্দিরে সারা দিন কাটিয়ে দিত সে। শ্রীলঙ্কার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও সে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। বুধবার ভোর রাতে তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। হাসপাতালে নিয়ে তাকে বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা করা হলেও সকাল ৭-৩০ নাগাদ মৃত্যু হয় তার।।

 

About Post Author