Home » বিধানসভায় বিধায়ক পদে ইস্তফা তৃণমূল নেতা তাপস রায়ের, দলের বিরুদ্ধে উগরে দিলেন একরাশ ক্ষোভ

বিধানসভায় বিধায়ক পদে ইস্তফা তৃণমূল নেতা তাপস রায়ের, দলের বিরুদ্ধে উগরে দিলেন একরাশ ক্ষোভ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ মার্চ: তৃণমূলের প্রতি একরাশ অভিমান নিয়ে দল ছাড়লেন তাপস রায়। সোমবার বিধানসভায় পৌঁছে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দিলেন ইস্তফা পত্র। পাশাপাশি দলের সমস্ত পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দিয়েছেন বলে খবর। লোকসভা ভোটের আগে তাঁর এই দলত্যাগ নিঃসন্দেহে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন বিধানসভা যাওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন দলের বিরুদ্ধে। এদিন তাপস রায় সাংবাদিকদের জানান, দলের দুর্নীতি এবং সন্দেশখালির ঘটনার পর থেকে মুখ দেখাতে পারছি না। শাহজাহানকে নিয়ে দল এবং শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিবাদ করলেও তাঁর সম্পর্কে একটি কথাও কেউ বলেননি।

আরও পড়ুন    আবগারি দুর্নীতি মামলায় অষ্টমবার তলব এড়ালেন, ১২ মার্চের পর ইডি মুখোমুখি হতে রাজি অরবিন্দ কেজরিওয়াল

একইসঙ্গে তাঁর বাড়িতে ইডি অভিযান নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অভিমান জানিয়ে বরানগরের বিধায়ক বলেন, ‘ ইডি অভিযানে বিধ্বস্ত আমি ও আমার পরিবার। আমারও স্ত্রী-পুত্র রয়েছে। আজ ৫২ দিন দল আমার পাশে দাঁড়ায়নি। কেউ ফোন করে আমার পরিরবারের কাউকে সমবেদনা জানায়নি। অনেকে আমায় বলেছে, এর পেছনে দলেরই কেউ কেউ আছে। যখন আমার বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযান চলছে, তখন তাদের মধ্যে আনন্দ দেখা যায়। এগুলো হৃদয়কে নাড়াচাড়া করে। ব্রাত্য আর কুণাল বোঝাতে এসেছিল আমায়। তখনই কুণালের কাছে সুব্রত বক্সির শোকজ নোটিশ এসেছে। এই হচ্ছে দল। তৃণমূলে আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। দলের একাধিক বিষয়ে আমি আহত হয়েছি, কষ্ট পেয়েছি। সন্দেশখালি থেকে শুরু করে একাধিক দুর্নীতি – নানা বিষয়ে আমার খারাপ লেগেছে। আর যাই হোক, এই দলে থাকা যায় না। তাই আমি বিধায়ক পদ এবং দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলাম।’

প্রসঙ্গত, কলকাতা উত্তরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার টিকিট দেওয়ার বিরোধিতা করেন বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়। তারপর থেকেই তাঁর দলত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে দলের অন্দরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। এমনকী বিগত কিছুদিন ধরেই দলীয় কর্মসূচিতেও দেখা যাচ্ছিল না তাপস রায়কে। তবে, তাপস রায় বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন সেই জল্পনা রবিবার রাত থেকে আরও বেড়ে যায়। সেই অনুমানই সত্যি হল। সোমবার বরানগর এলাকার কাউন্সিলররা সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দল না ছাড়ার জন্য অনুরোধ জানান। যদিও তাঁদের অনুরোধে নিজের অবস্থান থেকে সরেননি তাপস রায়। এমনকী তাপস রায়কে বোঝাতে এদিন তাঁর বাড়িতে যান ব্রাত্য বসু ও কুণাল ঘোষ। প্রায় ২ ঘণ্টা বৈঠক হয় তাঁদের মধ্যে। কুণাল তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে বরফ যে গলেনি সে কথা পরে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেই জানান তাপস। একরাশ অভিমানের সুর ঝরে পড়ে তাঁর গলায়।

About Post Author