Home » কেন বিজেপির বঙ্গের দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা চমকের পাশে এনেছে সংশয়?

কেন বিজেপির বঙ্গের দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা চমকের পাশে এনেছে সংশয়?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ মার্চ : রবিবার বিজেপি বেশ কিছু চমক সহ  বঙ্গে তাদের দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল। ২০২৪ লোকসভা ভোটের মাহেন্দ্রক্ষণে  তৃণমূল থেকে বিজেপিতে ঝাঁপ দিয়েও লোকসভা নির্বাচনে লড়ার  টিকিট পেলেন অর্জুন সিং, তাপস রায় এবং এতে চমক ছিল না । তাঁরা জিতুন বা না জিতুন – তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। তাই ব্যারাকপুর কেন্দ্রে পার্থ ভৌমিকের বিরুদ্ধে  অর্জুন সিং, কলকাতা উত্তরে সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাপস রায় এতদূর পর্যন্ত কার্যত চমকহীন ভাবে ঠিক ছিল। এমনকি আরেক তৃণমূলের প্রাক্তনী শীলভদ্র দত্তও বিরাট  বড় কোনও চমক নয়। এরকম নাম তো সম্ভাব্য তালিকাতে ভাসছিল-ই ।

গোল বেঁধেছে অন্যত্র। বিজেপি যেখানে যেখানে প্রার্থী তালিকায় চমক দেখিয়েছে , সেই চমক বুমেরাং হয়ে ফিরে আসার সংশয় জাগিয়েছে বিভিন্ন লোকসভা কেন্দ্রে।উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে স্বপন মজুমদারের নাম সামনে আসতেই বারাসাতের সাধারণ মানুষ থেকে  রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ সবার চোখই কপালে উঠে যায় রবিবার ভর সন্ধ্যেবেলা। ২০১৯ সালের মত মৃণাল কান্তি দেবনাথ কে প্রার্থী হিসেবে এনে কার্যত তৃণমূল ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পথ শুভম করে দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্বই। এবারও কী তাই হবে,বসিরহাটের প্রার্থীকে নিয়ে কিছুটা সংশয়। ‘সন্দেশখালির মুখ ‘ কে নরেন্দ্র মোদী যতই প্রার্থী হিসেবে সিলমোহর দিন, বসিরহাট কেন্দ্রে রেখা পাত্র আদৌ যে বসিরহাট কেন্দ্রে হাজি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই দিতে পারবেন তা মনেই করছে না – বসিরহাটের বিরাট এক অংশের বিজেপি কর্মীরা। মহম্মদ সামি না হোক, এমন একজন প্রার্থী তাঁরা চেয়েছিলেন যা দিয়ে খালি সন্দেশখালির প্রেক্ষাপটে নয়, সমগ্র বসিরহাট কেন্দ্রে  লড়াই দেওয়া যায়। কারণ সন্দেশখালি কোন সমীকরণে বিস্তীর্ণ বসিরহাটকে তুলে ধরবে তাও প্রশ্ন।  শুধু সন্দেশখালির ‘সংখ্যালঘু’  হিন্দুদের ওপরে নির্ভর করে সাড়ে তিনলাখ ভোটের মার্জিন উবে গিয়ে জয় আসবে এ স্বপ্ন বসিরহাটের বিজেপি  সমর্থকদের ও নেতৃত্বের এক অংশ মনে করছেন না। বনগাঁ কেন্দ্রে অ্যাডভান্টেজ থাকলেও এবং ব্যারাকপুর দমদমে লড়াই হলেও বারাসাত ও বসিরহাট কেন্দ্র নিয়ে বিজেপির অন্দরমহলে চাপা হতাশা। ফলে এই দুই কেন্দ্রে চমক হয়েছে সংশয়ে পরিণত।

হতে পারেন মন্ত্রী তবুও আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ রদবদল করে  চমক দেওয়া হয়েছে  কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে। তবুও চমক বিশেষ যে স্বস্তি দিচ্ছে না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন বিজেপি মন্ডলের নেতৃত্ব মনে করছেন। তাঁদের মতে, মালা রায়ের বিরুদ্ধে দেবশ্রী চৌধুরী প্রার্থী হিসেবে কতখানি ওজনদার তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষ প্রার্থী হওয়ায় দুর্গাপুরের বিজেপি কর্মীদের একাংশ যেরকম খুবই উল্লসিত তেমনই অবাঙালি ও শ্রমিকদের মধ্যে কীর্তি আজাদ বেশি প্রভাব ফেলতে পারেন। তবুও দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত পোড় খাওয়া নেতা। বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষ যে কীর্তি আজাদকে চাপে ফেলবেন তা নিয়ে দ্বিমত নেই। প্রাথমিকভাবে গুঞ্জন ছিল বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে লড়বেন অগ্নিমিত্রা পাল। মেদিনীপুর চাইছিলেন দিলীপ ঘোষ। হয়েছে উল্টো। এই রদবদলে কু প্রভাব পড়ে কিনা তাও দেখার।সবমিলিয়ে, বিজেপি প্রার্থী তালিকার চমক সর্বত্র স্বস্তি দিচ্ছে না বিজেপি কর্মী সমর্থকদের, কপালে ভ্রকুটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও।।

About Post Author