Home » Sonam Wangchuk: একুশ দিন অনশনের পর এবার বর্ডার মার্চ! দাবি আদায়ে অনড়, “থ্রি ইডিয়টস “এর ফুংসুক ওয়াংরু ওরফে সোনম ওয়াংচুক

Sonam Wangchuk: একুশ দিন অনশনের পর এবার বর্ডার মার্চ! দাবি আদায়ে অনড়, “থ্রি ইডিয়টস “এর ফুংসুক ওয়াংরু ওরফে সোনম ওয়াংচুক

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ এপ্রিলঃ লাদাখ! এই লাদাখ অসংখ্য পাহাড়ি চূড়ার দেশ, লাদাখ আসলে হিমালয়ের মরুভূমি। কিন্তু মরুভূমি বলতে আমাদের চোখের সামনে যেমন ভেসে ওঠে বালিময় বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঠিক তেমনটা নয়। লাদাখকে বলা যেতে পারে শুষ্ক পাথর আর বরফের মরুভূমি। ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে লাদাখ জম্মু-কাশ্মীরের লেহ  জেলার অন্তর্গত। লাদাখ মানে বরফ ছোঁয়া পাহাড়ের মাঝে অসংখ্য সর্পিল রাস্তা, রুক্ষ পর্বতশ্রেণী তারই মাঝে ছড়িয়ে রয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত নুরি পাথরের সম্ভার। লাদাখের কথা বলতে গেলে উঠে আসে ফুংসুক ওয়াংরু ওরফে সোনম ওয়াংচুকের নাম। এই লাদাখে রয়েছে একাধিক হ্রদ, যে হ্রদের বুকে নেমে এসেছে নীল আকাশ। রয়েছে একাধিক পাস। টালাং -লা সহ বিভিন্ন পাসের উচ্চতা ১৭০০০ ফুট। এক কথায় বলতে গেলে প্রকৃতি উজাড় করে তার রূপের একাধিক প্রতিচ্ছবি ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে লাদাখের বিভিন্ন অঞ্চলে। দেশ বিদেশ থেকে বহু পর্যটক আসেন এই লাদাখে। শান্ত নিস্তব্ধ লাদাখ ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষিত করে তার অপার সৌন্দর্যের কারণে। কিন্তু সেই লাদাখে এখন বিক্ষোভের আঁচ। কিন্তু কেন?সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে বেশ কিছুটা?

আরও পড়ুন    বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড মহারাষ্ট্রে, ঝলসে মৃত্যু ২ শিশু-সহ একই পরিবারের ৭ জনের


২০১৯ সালের আগস্টে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর জম্বু কাশ্মীর এবং লাদাখকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবার পর লাদাখে বসবাসকারী সংখ্যালঘু উপজাতিরা বুঝতে পারে তাদের কৃষ্টি সংস্কৃতি লাদাখের অকৃত্রিমতা এবং লাদাখে জমে থাকা খনিজ সম্পদের ভান্ডারকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন ষষ্ঠ তফসিলের অধীনস্থ উপজাতীয় এলাকার মর্যাদা পাওয়া। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল কমিশন ফর সিডিউল ট্রাইপস ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে লাদাখের জন্য একটি উপজাতীয় এলাকা মর্যাদা সুপারিশ করা হয়েছিল। তখনই লাদাখিরা ভেবেছিলেন তারা হয়তো তাদের সংস্কৃতির সংরক্ষণ কৃষির অধিকার এবং লাদাখের দ্রুত উন্নয়নের জন্য তহবিল বাড়াতে পারবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। এবং প্রশাসন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে থাকে। ২০২৩ সালের লেহ এপেক্স বডি এবং কার্গিল ডেমোক্রেটিক এ্যালায়েন্স উভয় অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা ‘লেহ চলো’ নামে একটি ধারাবাহিক বিক্ষোভ শুরু করে। অন্যদিকে লাদাখের কৃষ্টি সংস্কৃতি এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য যার সবচেয়ে বেশি অবদান, সেই সোনম ওয়াংচুক ষষ্ঠ তফসিলের অধীনস্থ হওয়ার দাবিসহ একাধিক দাবি নিয়ে অনশনে বসেন। ভেতাল টেকডিতে বসা সেই অনশনে অংশগ্রহণ করেন রাধাকে বসবাসকারী সংখ্যালঘু বহু উপজাতির মানুষ। দিন যত এগোতে থাকে ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা। সোনম ওয়াংচুক, যার জীবনের উপর প্রভাবিত হয়ে বলিউডের বিখ্যাত মুভি থ্রি ইডিয়টস তৈরি হয়েছিল। সেই মুভির অন্যতম চরিত্র ফুংসুক ওয়াংরু আসলে সোনম ওয়াংচুকের জীবনের উপর নির্ভর করে চরিত্রের রূপায়ণ হয়েছিল। সোনম ওয়াংচুক শ্রীনগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে পাস করা ছাত্র।

পরবর্তীতে পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভ প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি ১৯৮৮ সাল থেকেই স্টুডেন্টস এডুকেশন এন্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ প্রতিষ্ঠা করেন। ছাত্রদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কোচিং করানো শুরু করেন যার মধ্যে অধিকাংশই ছিল ৯৫ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয় থেকে ফেল করা ছাত্র। কোন বানেগা ক্রোড়পতির অনুষ্ঠানে এসে অমিতাভ বচ্চনের এক প্রশ্নের উত্তরে সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, তার মূল লক্ষ্য চিরাচরিত শিক্ষার যে অবনমন ঘটছে সেই অবনমন থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে উদ্ধার করতে গেলে আমূল পরিবর্তন করতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থার। ১৯৯৪ সালে অঞ্চলের নেতৃত্বে অংশীদারিত্ব এবং চালিত শিক্ষাগত সংস্কার কর্মসূচিকে প্রসারিত করার জন্য নিউ হোপ চালু করা হয়েছিল। মাইনাস ১২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে খোলা আকাশের নিচে বসে বহু সংখ্যালঘু আদিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে সোনম ওয়াংচুকের এই অনশন ইতিমধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে শুধু ভারত নয় সারা বিশ্বে। সারা বিশ্বের কাছে তাদের এই আন্দোলন তুলে ধরার জন্য অর্থাৎ গ্রাউন্ড রিয়েলিটি কে তুলে ধরার জন্য সীমান্ত মার্চের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ৭ এপ্রিল এই সীমান্ত মার্চ সংঘটিত হতে চলেছে। ওয়াংচুক শুধুমাত্র সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলি উপজাতি এলাকার জন্যই দাবি জানাননি, পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেছেন যে লাদাখের জন্য পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রয়োজন।

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তকমা কার্যত লাদাখকে কর্পোরেট দুনিয়ার শোষণের জন্য অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ তৈরি করেছে। ফলে হিমালয়ের যে ভঙ্গুর বাস্তু তন্ত্র এখনো বুঝিয়ে চলেছে সেই বাস্তুতন্ত্র কার্যত ধ্বংসের মুখে। অর্থাৎ শুধুমাত্র লাদাখে বসবাসকারী সংখ্যালঘু উপজাতিদের কৃষ্টি সংস্কৃতি রক্ষা করাই নয়, ওয়াংচুকের লক্ষ্য পরিবেশকে রক্ষা করা হিমালয় কে রক্ষা করা। হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করা যাতে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। কিন্তু নিজের জন্মভূমির রক্ষার জন্য কোনরকম আপোষে যেতে নারাজ ওয়াংচুক। তিনি যে অল্টারনেটিভ এডুকেশন সিস্টেমের প্রচলন করেছেন তার অগ্রগতির জন্য আলাদা ইউনিভার্সিটি তৈরির স্বপ্ন দেখেন তিনি। আগামী ৭ এপ্রিল যে সীমান্ত মার্চের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই সীমান্ত মার্চে ১০০০০ লাদাখি মেষপালক এবং কৃষকরা যুক্ত হবেন বলেই আশাবাদী। ‘ফ্রেন্ডস অফ লাদাখ’ এবং ‘ফ্রেন্ডস অফ নেচার’- নামের দুটি সংগঠন ইতিমধ্যেই তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ইতিমধ্যেই রাধা কি ছাত্রছাত্রীরা দিল্লি, পুনে, নাগপুরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। ফলে এটা বলা যেতেই পারে আগামী সাতই এপ্রিল লাদাখিদের কাছে এক ঐতিহাসিক দিন। দিনের পর দিন আন্দোলনের আরও তীব্রতা বাড়ছে। এখন দেখার কতদিন কেন্দ্রীয় সরকার চুপ করে থাকে? কবে কেন্দ্রীয় সরকার লাদাখিদের এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়?

#SonamWangchuk

#সোনমওয়াংচুক

#latestbengalinews

About Post Author