Home » রেশন দুর্নীতির তদন্তে ফের শাহজাহানের স্ত্রীকে তলব ইডির, নজরে তসলিমার ‘বিপুল সম্পত্তি’

রেশন দুর্নীতির তদন্তে ফের শাহজাহানের স্ত্রীকে তলব ইডির, নজরে তসলিমার ‘বিপুল সম্পত্তি’

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ এপ্রিলঃ রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই শেখ শাহজাহানের স্ত্রী তসলিমা বিবির নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁর নামে একাধিক জমি, হোটেল, গেস্ট হাউজ়ের পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, ২০১৫-২০১৯ সালের মধ্যেই এই সব সম্পত্তি কেনা হয়েছে। শাহজাহানের ফিশারিজ ব্যবসার ম্যানেজার মহিদুল মোল্লাকে জিজ্ঞাসবাদ করেই এই বিপুল সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। সোমবারই সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তসলিমা বিবিকে তলব করেছিল ইডি। প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। বুধবার ফের তসলিমাকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছে ইডি। কেননা তদন্তকারীরা মনে করছেন, তসলিমার আরও সম্পত্তির হদিশ পাওয়া যেতে পারে। সেই সূত্রেই এদিন তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  পূজাপাঠে খরচ হতে পারে, গবেষণায় সাফল্যের যোগ! পড়ুন রাশিফল

রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ইডি আধিকারিকরা একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন আদালতে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চিংড়ির ব্যবসার আড়ালে ১৩৭ কোটি কালো টাকা সাদা করেছেন সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহান। জানা গিয়েছে, চিংড়ি মাছের রফতানির কাজ করা দুটি সংস্থার মাধ্যমে শাহজানের সংস্থায় ওই পরিমাণ টাকা ঢুকেছিল। ইতিমধ্যেই সেই টাকা লেনদেনের নথিও সংগ্রহ করেছে ইডি। ইডির দাবি, ভুয়ো ভেড়ির মালিকদের কাছ থেকে মাছ কেনার নামে চলত কালো টাকা সাদা করার কাজ। এসকে সাবিনা নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করত। তারা ভুয়ো ভেড়ি মালিকদের কাছ থেকে মাছ কিনত। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর দাবি, আদিবাসীদের জমি দখলদারি সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ডও ছিলেন সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’। শাগরেদদের সামনে রেখে চলত সেই দখলদারিও। আর সেই কাজ করত শেখ শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীরা।

এদিকে, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডি আধিকারিকরা গত সপ্তাহেই শাহজাহানের দুটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। জানা গিয়েছে, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের পাশাপাশি অন্যান্য ১৫টি অ্যাকাউন্টের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও চেয়েছে ইডি। জানা গিয়েছে, একটি অ্যাকাউন্টে ৩১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের হদিশ মিলেছিল। ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টেও বিপুল লেনদেনের হদিশ মিলেছে। ইডির দাবি, ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শাহজাহানের সঙ্গে কলকাতার চিংড়ি রপ্তানিকারক সংস্থাটির দু’ দফায় ১০৪ কোটি ও ৩৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ১৩৭ কোটি। এ ছাড়াও ২০২১ ও ২২ সালে আরও ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকার লেনদেনের হদিশও মিলেছে।

About Post Author