সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ এপ্রিলঃ ফের তুঙ্গে রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাত। বিভিন্ন ইস্যুতে এর আগেও একাধিকবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের মতানৈক্য হয়েছে। তারই মধ্যে এবার অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সংঘাত চরমে। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনল রাজ্য সরকার। শিক্ষা দফতরের অভিযোগ, আইনের বাইরে গিয়ে রাজ্যপাল তথা আচার্য সি ভি আনন্দ বোস একক ভাবে রাজ্যের চার বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজ্যপাল যাতে তৎপরতার সঙ্গে রাজ্যের ৩১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সমস্যা নিয়ে এখনই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বিকাশভবনের তরফে রাজভবনে পরিষ্কার করা হয়েছে, নতুন করে কোনও উপাচার্যকে নিয়োগপত্র দিয়ে থাকলে তা বাতিল করা হোক। ইতিমধ্যেই রাজ্যপালকে কড়া চিঠি দিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। যেখানে বলা হয়েছে, রাজ্যপাল যেন তাঁর নির্দেশ প্রত্যাহার করেন। উচ্চশিক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ বিশেষ সচিব ওই চিঠিতে দাবি করেছেন, এই নিয়োগের বিষয়ে রাজভবনের তরফে গত ৫ এপ্রিল এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে লেখা হয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্যপাল দার্জিলিং হিলস, ঝাড়গ্রাম সাধু রামচাঁদ মুর্মু, উত্তর ২৪ পরগনার হরিচাঁদ গুরুচাঁদ এবং হুগলির রানী রাসমণি গ্রিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেছেন। যদিও এমন কোনও সুপারিশ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু করেননি বলেই জানান। তারপরই রাজভবনের তরফে এক্স হ্যান্ডলের পোস্ট মুছে দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ।
আরও পড়ুন স্বাদ বদলাতে নববর্ষে বানিয়ে ফেলুন অপূর্ব স্বাদের গোয়ালন্দ মটন কারি
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে রাজ্যের মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ জারি করেছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের। যদিও এক্স হ্যান্ডেলে গোটা বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন ব্রাত্য। জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন। গত ৩০ মার্চ মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ‘ওয়েবকুপা’র সভা ডাকা হয়েছিল, যার সভাপতিত্ব করেছিলেন ব্রাত্য। ওই সভাতেই নির্বাচনী বিধি ভাঙা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল। তার জেরেই ব্রাত্যকে পদ থেকে সরানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সুপারিশ করেছেন তিনি। রাজভবনের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে লেখা হয়, ব্রাত্য বসুর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যপালের সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে।
যদিও পরে ওই পোস্ট রাজভবনের তরফে ডিলিট করা হয়েছে বলেই দাবি করেন ব্রাত্য বসু। তবে তার কিছুক্ষণের মধ্যে ব্রাত্য বসুকে সরানোর সুপারিশ করে রাজভবন। অন্যদিকে, রাজ্যপালের এই সুপারিশকে হাস্যকর বলে দাবি করেছেন ব্রাত্য। এ বিষয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির কাছে যদি রাজ্যপালকে সরানোর সুপারিশ করতাম, তা হলে সেটা যেমন হাস্যকর হত, এটাও ঠিক তেমনই হাস্যকর। আমি কোনও নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করে থাকলে তা কমিশনের নজরে আনার অধিকার রয়েছে রাজনৈতিক দলের। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কোনও রাজ্যের মন্ত্রীর অপসারণ বা নিয়োগের সুপারিশ করতে পারেন একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রাজ্যপাল এমন অভিযোগ তুলে নিজের সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করছেন। নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ও প্রকাশ্যে এনেছেন। নিজের সাংবিধানিক সীমাও লঙ্ঘন করেছেন।’


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর