সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ এপ্রিলঃ সন্দেশখালি মামলায় সিবিআইকে সিট গঠনের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চের। বুধবার আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সন্দেশখালি মামলায় সিবিআই-কে পোর্টাল তৈরি করতে হবে। জমি দখল, ধর্ষণ ও চাষের জমিকে ভেড়িতে পরিবর্তন করা-সহ সমস্ত অভিযোগের তদন্ত করবে সিবিআই। আদালতের নজরদারিতে হবে তদন্ত। স্পর্শকাতর এলাকায় ১৫ দিনের মধ্যে সিসিটিভি বসাতে হবে, বসাতে হবে LED আলোও। মামলাকারীদের আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, প্রাক্তন বিচারপতিকে দিয়ে কমিশন গড়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। বুধবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সব কিছু দেখে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই যে এক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্য সব সহযোগিতা করবে তদন্তকারী সংস্থাকে।
আরও পড়ুন UEFA Champions League: জোড়া গোল রাফিনহার, প্যারিসে এমবাপ্পেদের হারাল বার্সেলোনা
ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সন্দেশখালির ঘটনায় যে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, সে বিষয়ে আদালতের কোনও সন্দেহ নেই। মহিলাদের উপর অত্যাচার, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তফসিলি জনজাতির জমি কেড়ে নেওয়া-সহ বিভিন্ন অভিযোগ বিবেচনা করে তাই আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সিবিআই সন্দেশখালির মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করবে। আদালতের নির্দেশ, মামলার সব পক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সিবিআইয়ের কাছে সব অভিযোগ জমা দিতে হবে। সিবিআইয়ের চালু করা ইমেল আইডির মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে হবে। অভিযোগকারীদের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এই ব্যবস্থা। সন্দেশখালি এলাকায় ওই ইমেল আইডির প্রচার করতে হবে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে। স্থানীয় ভাষায় সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক কাগজেও ওই বিষয়ে মানুষকে অবহিত করতে হবে বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট। আগামী ২ মে হাই কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের ৮ প্রতিনিধি দল সরবেড়িয়া আকুঞ্জিপাড়ায় রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে অভিযুক্ত শেখ শাহজাহানের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে তাঁরা হামলার শিকার হন। এই ঘটনার পরই ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয় সরবেড়িয়া আআগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জিয়াউদ্দিন মোল্লা-সহ বেশ কয়েকজনকে। সূত্রের খবর, সন্দেশখালিতে শাহজাহানের ডান হাত হিসেবে পরিচিত জিয়াউদ্দিন। গত ৫ জানুয়ারি শাহজাহানের বাড়িতে পৌঁছনোর পর পুরো ঘটনা পরিচালনা করেছিলেন জিয়াউদ্দিন। ওইদিন জিয়াউদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করেন শাহজাহান। শাহজাহানের নির্দেশেই গত ৫ জানুয়ারি ইডি আধিকারিকদের উপর হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি বাড়ির পাশ থেকে ফোন করে ‘অনুগামী’-দের জড়ো হতে বলেছিলেন। ইতিমধ্যেই বসিরহাট আদালতে এমনটাই দাবি করেছিলেন সিবিআইয়ের আইনজীবী।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা